মৈরাঙের আইএনএ জাদুঘর ও ইম্ফল সৈনিক স্কুল পরিদর্শন উপ-রাষ্ট্রপতির

Spread the news

পিএনসি, ইম্ফল।
বরাক তরঙ্গ, ৯ সেপ্টেম্বর : মণিপুর সফরে এসে মঙ্গলবার মৈরাঙের ঐতিহাসিক আইএনএ জাদুঘর এবং ইম্ফল সৈনিক স্কুল পরিদর্শন করলেন উপ-রাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণন। মৈরাঙে আইএনএ-র বীরত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ঐতিহাসিক সেই স্থানও পরিদর্শন করেন, যেখানে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রথমবারের মতো আইএনএ ভারতের ত্রিবর্ণরঞ্জিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিল। তিনি আইএনএ যুদ্ধ জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর ইম্ফল সৈনিক স্কুলে গিয়ে যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন উপ-রাষ্ট্রপতি। সেখানে ক্যাডেটদের কাছ থেকে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন তিনি।

মৈরাঙের একটি স্কুলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপ-রাষ্ট্রপতি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (আইএনএ) ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তামিলনাড়ু-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী আইএনএ-তে যোগ দিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন।

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে তাঁর সাম্প্রতিক সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেখানে ভারতের ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। এ ধরনের ঐতিহাসিক স্থান তরুণ প্রজন্মকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
সৈনিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, কোনও প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ঐতিহ্য শুধু তার ভবন বা নথিপত্রে নয়, বরং শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের চরিত্রের মধ্যেই প্রতিফলিত হয়। ক্যাডেটদের শৃঙ্খলা, সাহস ও নেতৃত্বের গুণ অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, শৃঙ্খলা উৎকর্ষের ভিত্তি। প্রকৃত সাহস হলো অন্যায়ভাবে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার পাশে দাঁড়ানো। একজন প্রকৃত নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করেন, নিজের কাজের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, অন্যদের কথা শোনেন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার নৈতিক সাহস রাখেন।

জাতীয় সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরে সিপি রাধাকৃষ্ণন বলেন, ভারতের ভাষা, ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্য একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ। ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর চেতনাকে শক্তিশালী করতে সৈনিক স্কুলগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ, এখানে বিভিন্ন পটভূমির শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ, আহার ও খেলাধুলা করে।

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি ক্যাডেটদের শৃঙ্খলা, সততা ও দেশপ্রেমের মতো চিরন্তন মূল্যবোধ বজায় রাখার পাশাপাশি পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও রোবোটিক্সের মতো উদীয়মান ক্ষেত্র তরুণদের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ক্যাডেটদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় উপ-রাষ্ট্রপতি উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশের ‘অবিচ্ছেদ্য ও সুন্দর অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করে এখানকার মানুষের কঠোর পরিশ্রম ও অবদানের প্রশংসা করেন। শিক্ষার্থীদের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের ভালো গুণগুলো ধরে রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, পরিবর্তনই পৃথিবীর একমাত্র ধ্রুব সত্য।

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সেলুলার জেল পরিদর্শন প্রসঙ্গে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তিনি তরুণদের ওই ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের আহ্বান জানান। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগ ও কঠিন সংগ্রামের ইতিহাস অনুধাবনের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা আরও জাগ্রত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‘বিকশিত ভারত’ গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে উপ-রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলেই দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। প্রতিদিন নিজেদের সেরাটা দেওয়ার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে বিকশিত ভারতের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করা সম্ভব বলেও তিনি জানান।

উপ-রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মণিপুরের রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লা, মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব দীপ্তি মোহিল চাওলা, সৈনিক স্কুল সোসাইটির পরিদর্শক আধিকারিক মেজর জেনারেল শুভঙ্কর বসু (ভিএসএম), ব্রিগেডিয়ার অমিত চ্যাটার্জি এবং সৈনিক স্কুল ইম্ফলের অধ্যক্ষ কর্নেল এ রাজীব-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *