কাছাড়ে ৬৫তম শিক্ষক দিবস উদযাপন, ২৯ জন কৃতী শিক্ষককে সংবর্ধনা____
বরাক তরঙ্গ, ৫ সেপ্টেম্বর : শিক্ষকরা সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের অন্যতম প্রধান কারিগর। শিক্ষকতা শুধুমাত্র একটি পেশা নয়, বরং দায়িত্বশীল নাগরিক ও মানবিক সমাজ গড়ার মহান দায়িত্ব। শনিবার বঙ্গভবনে কাছাড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ৬৫তম শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন অসম সরকারের খাদ্য ও জনবণ্টন, আবাসন ও নগর বিষয়ক এবং সমবায় বিভাগের মন্ত্রী কৌশিক রায়।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাবিদ, ছাত্রছাত্রী, প্রশাসনিক আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কাছাড় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৯ জন কৃতী শিক্ষককে সংবর্ধনা জানানো হয়।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের দায়িত্ব শুধু পাঠ্যক্রম শেষ করা কিংবা পরীক্ষার প্রস্তুতি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি মূল্যবোধ, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষাও দেন। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জীবনকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাবিত করতে পারে।
তিনি বলেন, একটি দেশের শক্তি তার শিক্ষা ব্যবস্থার গুণমানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত এবং শিক্ষকরা সেই ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। শিক্ষকদের সম্মান করা মানে শুধু একটি পেশাকে সম্মান করা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও সমাজের ভবিষ্যৎকে সম্মান করা।

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাক্ষেত্রকেও এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধও অর্জন করতে হবে। তাঁর মতে, শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া নয়; সচেতন, দায়িত্বশীল, মানবিক ও সমাজের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ নাগরিক তৈরি করাই শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে কাছাড়ের জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্তা, আইএএস, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে জেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় তাঁদের অবদানের প্রশংসা করেন। বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতাও শিক্ষার মানোন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে স্বাগত বক্তব্যে কাছাড়ের বিদ্যালয় পরিদর্শক মিঠুন জহুরি, এইএস, শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তাঁদের সামাজিক দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অসম রাজ্য সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরে মন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিরা প্রদীপ প্রজ্বলন এবং ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল ২৯ জন কৃতী শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান। প্রশংসাপত্র, ঐতিহ্যবাহী গামছা ও উপহার তুলে দিয়ে তাঁদের সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত জাগৃতি কালোয়ার, শিলচর উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ সুজিত তিওয়ারি-সহ অন্যান্য আধিকারিক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিপ্লব বিশ্বাস।



