নৃরিমবাংলো টানেলে গর্তের মিছিল, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৫ সেপ্টেম্বর : শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের অন্তর্গত ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের নৃরিমবাংলো এলাকার টানেলের ভিতরের রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে টানেলের ভিতরের রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই গভীর যে, দেখলে মনে হচ্ছে জাতীয় সড়কের উপর যেন ছোট ছোট পুকুর তৈরি হয়েছে। ফলে টানেলের ভিতর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এই দুরবস্থা চললেও সংস্কারের ক্ষেত্রে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের (NHAI) তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তাঁদের দাবি, টানেলের ভিতরের গর্তে পড়ে ইতিমধ্যেই একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে রাতের দিকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত দৃশ্যমানতার অভাবে গর্তগুলি এড়িয়ে যানবাহন চালানোও কঠিন হয়ে পড়ে।

রাস্তার এই বেহাল দশা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরেও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ডিমা হাসাও জেলা প্রশাসন এবং ডিমা হাসাও স্বশাসিত পরিষদের সঙ্গে NHAI কর্তৃপক্ষের একাধিক বৈঠক হয়েছে। তবে বৈঠকের পরও নৃরিমবাংলো টানেলের রাস্তা সংস্কারের কাজে প্রত্যাশিত গতি দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।মশুধু নৃরিমবাংলো টানেল নয়, হাতিখালি থেকে নৃরিমবাংলো পর্যন্ত ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশের অবস্থাও বেশ কয়েক জায়গায় শোচনীয়। কোথাও পিচ উঠে গিয়েছে, আবার কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বর্ষার পর রাস্তার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এদিকে, মান্দারডিসায় এই সড়ক ব্যবহারকারী যানবাহন থেকে নিয়মিত টোল আদায় করা হলেও রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীরা। তাঁদের বক্তব্য, টোল আদায় করা হলে রাস্তার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিন রাস্তা বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনও।

ডিমা হাসাওয়ের পাহাড়ি অঞ্চলের সঙ্গে শিলচর-সহ বরাক উপত্যকার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। তাই দ্রুত নৃরিমবাংলো টানেল-সহ হাতিখালি থেকে নৃরিমবাংলো পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *