বরাক তরঙ্গ, ৪ সেপ্টেম্বর : নগাঁও লোকসভা আসনের আসন্ন উপনির্বাচনের প্রাক্কালে জেলার প্রাক্তন জেলা কমিশনার তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক দেবাশিস শর্মার বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে উচ্চস্তরীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনে তথ্য-প্রমাণসহ একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ধুবড়ির সাংসদ রকিবুল হোসেন। অসমের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে সাংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। গত ৩০ আগস্ট দাখিল করা তাঁর পূর্ববর্তী অভিযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রকিবুল জানান, নগাঁও লোকসভা উপনির্বাচনে দেবাশিস শর্মার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এরই মধ্যে ওই আধিকারিকের সরকারি পদ থেকে পদত্যাগ বা স্বেচ্ছাবসর গ্রহণের ঘটনায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।
রকিবুল হোসেনের অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন পদত্যাগ করলেই কোনও প্রশাসনিক আধিকারিক তাঁর পূর্ববর্তী কার্যকালের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি থেকে মুক্তি পেতে পারেন না। দেবাশিস শর্মা জেলা কমিশনার ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ইভিএম ব্যবস্থাপনা, নির্বাচনী সামগ্রী, কর্মী নিয়োগ, পরিবহণ এবং ভোটগ্রহণের প্রস্তুতির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় পরিচালনা করেছিলেন। তাই তাঁর কার্যকালে নেওয়া নির্বাচন-সংক্রান্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ পুনরায় পর্যালোচনা করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন সাংসদ। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে আসন্ন উপনির্বাচনের ফলাফল কোনওভাবেই প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রোধ করা সম্ভব হবে।
চিঠিতে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রশাসনিক অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। হুসেইনের দাবি, দেবাশিস শর্মার প্রভাব এবং তাঁর অনুমোদিত কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে পঞ্চায়েত স্তরে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক এবং খণ্ড উন্নয়ন আধিকারিকদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতে নিরপেক্ষ আর্থিক ও প্রশাসনিক অডিটের দাবি জানিয়েছেন সাংসদ। পাশাপাশি প্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রুখতে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ইলেকট্রনিক তথ্য, সরকারি রেকর্ড, মুভমেন্ট রেজিস্টার এবং সিসিটিভি ফুটেজ অবিলম্বে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়ার জন্যও নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে একাধিক দাবি জানিয়েছেন রকিবুল হোসেন। তাঁর দাবি, দেবাশিস শর্মার কার্যকালের কর্মকাণ্ড নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে স্বাধীন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগ যেন চূড়ান্তভাবে গ্রহণ না করা হয়।
এছাড়া তাঁর নির্দেশে কাজ করা অন্যান্য আধিকারিকদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা, নগাঁও জেলার নির্বাচনী প্রস্তুতি তদারকির জন্য একজন প্রবীণ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সরকারি পদকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার রোধ করতে এই পদক্ষেপগুলি অত্যন্ত জরুরি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন ধুবড়ির সাংসদ রকিবুল হোসেন।



