২ সেপ্টেম্বর : নিজের ইচ্ছেতেই বাংলাদেশে ফিরবেন তিনি। অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের বাইরে থাকার কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে বলে ফের জানালেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জটিলতা। এর সূত্রপাত গত ৫ অগস্ট। ওই দিন ভারতে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন হাসিনা। তাঁর বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানায় বাংলাদেশের সরকার। এরপরই বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, তারেক রহমানের দিল্লি সফরের আগে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের শর্ত দিয়েছে ঢাকা। যদিও এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। তবু জল্পনা অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই প্রত্যর্পণের শর্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা। সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভারতে বসে তাঁর মন্তব্যের কারণে কেন দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তাঁর কথায়, “আমার প্রত্যাবর্তন কী ভাবে শর্ত হতে পারে, সেটাই বুঝতে পারছি না।”
এই প্রসঙ্গেই তারেক রহমানকেও নিশানা করেন হাসিনা। তিনি দাবি করেন, ২০০৭ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে ব্রিটেনে যাওয়ার সময় তারেক রহমান স্ট্যাম্প পেপারে সই করে আর কখনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না থাকার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে লন্ডনে বসেই তিনি রাজনীতি করেছেন বলে অভিযোগ হাসিনার।
হাসিনার বক্তব্য, তারেক রহমান তাঁর মা খালেদা জিয়ার পরিবর্তে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে দলের বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, “আমি কি কখনও ব্রিটেনের সরকারকে এসব বন্ধ করতে বলেছি? ওঁর তাহলে সমস্যা কী?”
সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানান, দেশে ফেরার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ পরে জানাবেন। ক্ষমতায় ফেরার উদ্দেশ্যে তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চাইছেন না বলেও দাবি করেন। তাঁর কথায়, বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোই দেশে ফেরার একমাত্র কারণ।
হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। উন্নয়ন থমকে গেলে কর্মসংস্থানও ব্যাহত হয় এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। পাশাপাশি, চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলি ফের সক্রিয় হয়ে উঠলে তা বাংলাদেশের পাশাপাশি গোটা অঞ্চলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



