তারাপুরে পণ্ডিত রাজমোহন নাথ কলাক্ষেত্রের ভবন নির্মাণের শিলান্যাস________
বরাক তরঙ্গ, ১ সেপ্টেম্বর : নাথ যোগী সমাজ দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সমাজের গৌরবময় ইতিহাস, স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং মানবসেবার উজ্জ্বল পরম্পরা রয়েছে। সেই ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে নতুন প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত, দক্ষ ও আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলা সকলের দায়িত্ব। মঙ্গলবার শিলচরে পণ্ডিত রাজমোহন নাথ কলাক্ষেত্রের ভবন নির্মাণের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন রাজ্যসভার সদস্য কণাদ পুরকায়স্থ।
শিলচর শহরের তারাপুরে ঐতিহ্যবাহী নাথ ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে বরাদ্দকৃত ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই ভবন নির্মাণ করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিলান্যাস করেন সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ। সঙ্গে ছিলেন বড়খলার বিধায়ক কিশোর নাথ।
বক্তব্যে কণাদ পুরকায়স্থ বলেন, নাথ যোগী সম্মেলনী রাজ্যের নাথ সম্প্রদায়ের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংগঠনটি নাথ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সংরক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষা, ঐক্য এবং সমাজের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে চলেছে।
নাথ সমাজের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন সাংসদ। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পদ্মশ্রী কবীন্দ্র পুরকায়স্থের সঙ্গে নাথ সম্প্রদায়ের নিবিড় সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বরাক উপত্যকায় বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার সময় নাথ সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা কবীন্দ্র পুরকায়স্থকে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা করেছিলেন। একসময় নাথ সম্প্রদায় অধ্যুষিত নরসিংপুরে বরাক উপত্যকায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পণ্ডিত রাজমোহন নাথের অবদানের কথা স্মরণ করে কণাদ পুরকায়স্থ বলেন, তিনি ছিলেন এক বিরল প্রতিভা ও ব্যক্তিত্ব। নাথ সম্প্রদায়ের সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশের পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজের সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রসার এবং মানবসেবাতেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে সাংসদ বলেন, শিক্ষাই সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, প্রশাসক, সমাজসেবক এবং দেশের নেতৃত্বদাতা নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। তাই তাঁদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা সকলের দায়িত্ব। পণ্ডিত রাজমোহন নাথের নামে নির্মীয়মাণ এই কলাক্ষেত্র ভবিষ্যতে শিক্ষা, সমাজের ঐক্য, সংস্কৃতি ও অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বড়খলার বিধায়ক কিশোর নাথ পণ্ডিত রাজমোহন নাথের সমাজ ও সংস্কৃতিতে অবদানের কথা তুলে ধরে ভবন নির্মাণে সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি আগামী দিনে কলাক্ষেত্রের উন্নয়নে তাঁর পক্ষ থেকেও ২৫ লক্ষ টাকা তহবিল বরাদ্দের ঘোষণা করেন।
এর আগে অনুষ্ঠানের মঞ্চে বক্তারা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পদ্মশ্রী কবীন্দ্র পুরকায়স্থের স্মৃতিচারণ করেন। নাথ সমাজের সার্বিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এই সম্প্রদায়ের সঙ্গে কবীন্দ্র পুরকায়স্থের ছিল গভীর আত্মিক সম্পর্ক। তাঁর সেই ধারাকে অনুসরণ করে নাথ সম্প্রদায়ের সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে কণাদ পুরকায়স্থের সহযোগিতার জন্যও তাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব বীরেশচন্দ্র নাথ, পণ্ডিত রাজমোহন নাথের প্রপৌত্র ধ্রুবজ্যোতি নাথ, সাহিত্যিক তপনকান্তি নাথ, বীণাপাণি নাথ, হিমাদ্রি শেখর নাথ, শান্তি ভূষণ নাথ, লিটন নাথ, অরুণ নাথ, বিপ্লব দেবনাথ, সৌমিত্র নাথসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বের পাশাপাশি স্বাগত বক্তব্য দেন কাছাড় যোগী সম্মিলনীর সভাপতি বিজয় নাথ। দীপক নাথের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিপ্লব কান্তি নাথ।



