স্কুল-কলেজে হিজাব সহ কোনও ধর্মীয় পোশাক নয়, মত কাটিগড়ার বিধায়কের_____
শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ৩০ আগস্ট : ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের একাংশের বিভিন্ন দাবি ও অবস্থান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পোশাক পরিধান নিয়ে তীব্র মন্তব্য করলেন কাছাড় জেলার কাটিগড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের অভিযোগ, দেশের কিছু ইসলামি নেতা বিভিন্ন সময়ে ৩৭০ ধারা পুনর্বহাল, পার্সোনাল ল’ বোর্ডের স্বীকৃতি, মুসলিমদের জন্য বিশেষ অধিকার, সংখ্যালঘু বৃত্তি, তিন তালাক সংক্রান্ত বিষয় এবং ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি কার্যকর না করার মতো বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন। একইসঙ্গে ট্রেনে নামাজ পড়ার স্বাধীনতার দাবিও তোলা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে এসব বিষয়ে নিজের আপত্তির কথা জানিয়ে বিধায়ক দাবি করেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে এমন কোনও দাবি গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বা জনপরিসরের নিয়মকানুনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর বক্তব্যে উগ্র মৌলবাদী মানসিকতার বিরুদ্ধেও তীব্র অবস্থান প্রকাশ পায়।
এদিন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ‘ভারতরত্ন’ ড. এপিজে আব্দুল কালামের প্রসঙ্গও টেনে আনেন কমলাক্ষ। আব্দুল কালামের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা এবং একজন কথিত সন্ত্রাসবাদীর জানাজায় মানুষের উপস্থিতির তুলনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন – দেশের একজন মহান বিজ্ঞানী ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির প্রতি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের যে শ্রদ্ধা, তা কি একইভাবে অন্য ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে? তাঁর কথায়, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির জানাজায় কতজন ইসলাম ধর্মী লোক ছিলেন, তবে একই দিনে মারা যাওয়া জনৈক এক সন্ত্রাসবাদীর জানাজায় অসংখ্য জনসমাগম ঘটে। এনিয়ে সমালোচনা করেন বিধায়ক।
সংখ্যালঘু রাজনীতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত আইন এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে যারা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া মন্তব্য করেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্যের এই অংশ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পোশাক নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কাটিগড়ার বিধায়ক। তাঁর মতে, স্কুল-কলেজে হিজাব অথবা অন্য কোনও ধর্মীয় পোশাক পরিধান করা উচিত নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকলের জন্য অভিন্ন পোশাক বিধি থাকা প্রয়োজন বলেই তাঁর বক্তব্য।
হাইলাকান্দির আলাগাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক জুবাইর আনামকে নিশানা করে কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ বলেন, হাতের ট্যাটু দেখিয়ে হিজাব নিয়ে রাজনীতি না করার পরামর্শই তিনি দেবেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পোশাককে কেন্দ্র করে যখন বিভিন্ন জায়গায় বিতর্ক চলছে, ঠিক সেই সময় কাটিগড়ার বিধায়কের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পোশাকবিধি, ব্যক্তিগত আইন এবং ইউসিসি-র মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে বিধায়কের বক্তব্য আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।



