শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২৯ আগস্ট : দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে পাঁচগ্রাম ঠাণ্ডাপুর এলাকায় নতুন শ্মশান কালী মন্দির নির্মাণের কাজের শুভ সূচনা হলো। শনিবার ধর্মীয় রীতিনীতি ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মন্দির নির্মাণের শিলান্যাস অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, কাটিগড়ার সার্কল অফিসার যাত্রাকান্ত কর্মকার, মন্দির কমিটির সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
ঠাণ্ডাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্থায়ী ও সুসজ্জিত শ্মশান কালী মন্দির নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এদিনের শিলান্যাসের মধ্য দিয়ে সেই নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ মন্দির নির্মাণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, মন্দির নির্মাণের কাজে তাঁর সহযোগিতা শুধু প্রাথমিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী দিনে নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে সামনে রেখে একটি সুন্দর, সুসজ্জিত ও দৃষ্টিনন্দন শ্মশান কালী মন্দির গড়ে তুলতে তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন বলেও আশ্বাস দেন।
বিধায়কের এই উদ্যোগে স্বাভাবিকভাবেই খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের দাবি এবার বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ায় এলাকায় নতুন করে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। মন্দিরটি নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।
এদিকে, ঠাণ্ডাপুরের এই উন্নয়নমূলক উদ্যোগের পাশাপাশি আরও একাধিক কাজের ঘোষণা করেছেন পাঁচগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের সভাপতি হীরালাল দাস। তিনি জানান, পাঁচগ্রাম জিপির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আরও তিনটি উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই ওই কাজগুলিরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
মন্দিরের শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে এদিন ঠান্ডাপুর এলাকায় ছিল উৎসবের আবহ। স্থানীয় মানুষের আশা, সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে এবং আগামী দিনে পাঁচগ্রাম ঠাণ্ডাপুরে গড়ে উঠবে একটি সুন্দর, সুসজ্জিত ও ঐতিহ্যবাহী শ্মশান কালী মন্দির।



