হাইলাকান্দিতে শ্রীরামকৃষ্ণ সেবা সমিতির উদ্যোগে যুব সম্মেলন_______
বরাক তরঙ্গ, ২৮ আগস্ট : যুবসমাজের মধ্যে মূল্যবোধ, চরিত্র গঠন, নেতৃত্ব, সেবা ও আত্মনির্ভরতার চেতনা জাগ্রত করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার হাইলাকান্দির শ্রীরামকৃষ্ণ সেবা সমিতিতে অনুষ্ঠিত হলো এক যুব সম্মেলন। যুব বিভাগ, শ্রীরামকৃষ্ণ সেবা সমিতি, হাইলাকান্দির উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে স্বামী বিবেকানন্দের জীবন, আদর্শ ও চিন্তাধারাকে অনুসরণ করে যুবসমাজকে দেশ ও সমাজ গঠনের কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
প্রদীপ প্রজ্বলন ও বৈদিক মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বিবেকানন্দ ছাত্রাবাসের ছাত্রদের পরিবেশনায় উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে আশ্রম সভাপতি শেখর চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য রাখেন। স্বামী বিবেকানন্দের রচনাবলী থেকে পাঠ করেন যুব-সঞ্চালক ড. তীর্থঙ্কর চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানের প্রারম্ভিক পর্বে বক্তব্য রাখেন হাইলাকান্দির জেলা কমিশনার জয় বিকাশ। তিনি সমাজ গঠনে যুবসমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, একটি প্রগতিশীল, দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
হাইলাকান্দির বিধায়ক ড. মিলন দাস তাঁর বক্তব্যে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও চিন্তাধারাকে অনুসরণ করে যুবসমাজকে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

সম্মেলনের মূল পর্বে “কেন স্বামীজিকে পড়তে, জানতে ও অনুসরণ করতে হবে?” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন উত্তর-পূর্বাঞ্চল-৩ রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ ভাবপ্রচার যুব পরিষদের সভাপতি তথা শিলচর রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী গণধীশানন্দজী মহারাজ। তিনি বলেন, স্বামী বিবেকানন্দকে নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করলে যুবসমাজের সামনে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তাঁর আদর্শ, চিন্তাভাবনা ও জীবনদর্শন অনুসরণ করলে বর্তমান সময়ের নানা সংকট থেকে যুবপ্রজন্ম মুক্তির পথ খুঁজে পাবে। স্বামীজির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আত্মবিশ্বাস, চরিত্রগঠন ও মানবসেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এরপর ‘বি অ্যান্ড মেক’ — স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে নেতৃত্ব, সেবা ও আত্মোন্নয়ন” শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন রামকৃষ্ণ মিশন, হাফলং-এর সম্পাদক স্বামী দেবত্বানন্দজি মহারাজ। তিনি বলেন, বর্তমান যুগে প্রত্যেক যুবকের স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও জীবনদর্শন অনুসরণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো ত্যাগের অভাব। তাই নিজের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত অংশ ত্যাগ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। লোভ, হিংসা ও বিদ্বেষের মতো নেতিবাচক প্রবৃত্তি পরিহারের শিক্ষাই স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও আদর্শ থেকে পাওয়া যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে কীভাবে একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা যায়, সেই পথ অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।

“স্বামীজির ভাবনায় যুবসমাজ: মূল্যবোধ ও চরিত্র গঠন” শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রামকৃষ্ণ মিশন, বিবেকনগর, ত্রিপুরার সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী শুভকরানন্দজী মহারাজ বলেন, ধৈর্য, সহনশীলতা, সংযম ও অধ্যবসায়—এই মূল্যবোধগুলির ওপর স্বামী বিবেকানন্দ বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। শুধু বক্তব্যের মধ্যেই নয়, স্বামীজি নিজেও তাঁর জীবনে এই গুণগুলির চর্চা করেছিলেন। দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেও তিনি কখনো পরিস্থিতির কাছে মাথা নত করেননি। দৃঢ় মনোবল ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিকূলতার মোকাবিলা করেছিলেন।
তিনি যুবসমাজকে স্বামীজির জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সংযম বজায় রেখে অধ্যবসায়ের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। নিজের জীবনকে সার্থক ও অর্থবহ করে তুলতে যুবসমাজের কাছে স্বামী বিবেকানন্দের স্মরণ, মনন ও অনুধ্যান একান্ত প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিন সম্মেলনে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকেও স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও আদর্শ নিয়ে বক্তব্য রাখা হয়। যুব বিভাগের সদস্যরা পরিবেশন করেন স্বামীজির গান। প্রশ্নোত্তর পর্বের পর আশ্রম সম্পাদক দেবজিত চক্রবর্তী ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এদিনের যুব সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।



