সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে হাইলাকান্দি কল্যাণ আশ্রমে রাখিবন্ধন উৎসব উদযাপন

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৮ আগস্ট : ভ্রাতৃত্ব, সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে হাইলাকান্দির কল্যাণ আশ্রমে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হলো পবিত্র রাখীবন্ধন উৎসব। কল্যাণ আশ্রমের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আশ্রমের ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, দেশাত্মবোধক সঙ্গীত ও গীতা শ্লোকপাঠ উপস্থিত সকলের মধ্যে উৎসবের আবহ সৃষ্টি করে। একইসঙ্গে রাখীবন্ধনের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও সমাজজীবনে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভারতমাতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন কল্যাণ আশ্রমের সভাপতি সুব্রত শর্মা মজুমদার, মুখ্য বক্তা কিরণময় দত্ত, অমিয় দেব, সংস্কার ভারতীর প্রান্তীয় সদস্য শংকর চৌধুরী-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ভারতমাতার বন্দনা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

এরপর কল্যাণ আশ্রমের ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করে। পরবর্তীতে তারা একাধিক দেশাত্মবোধক সঙ্গীত ও গীতা শ্লোক পরিবেশন করে অনুষ্ঠানে এক বিশেষ আবহ তৈরি করে। ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশনা উপস্থিত সকলের প্রশংসা অর্জন করে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কল্যাণ আশ্রমের সভাপতি সুব্রত শর্মা মজুমদার। তিনি বলেন, রাখিবন্ধন উৎসব কল্যাণ আশ্রমের একটি নিয়মিত কার্যক্রম। এই উৎসবের মাধ্যমে সমাজের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের ভাবধারা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। রাখির বন্ধন শুধুমাত্র ভাই-বোনের সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৃহত্তর অর্থে এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ উদযাপনের প্রেক্ষাপটে রাখীবন্ধন উৎসবের বিভিন্ন দিক ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সংঘের বরিষ্ঠ স্বয়ংসেবক কিরণময় দত্ত। তিনি রাখীবন্ধনের ঐতিহাসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি সমাজজীবনে পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা ও ঐক্যের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে রাখিবন্ধনকে সামাজিক সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়।

তিনি বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতিতে রাখীবন্ধনের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। এই উৎসব মানুষের মধ্যে আত্মীয়তার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে এবং সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার বার্তা দেয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধের মধ্য দিয়েই একটি সুস্থ ও শক্তিশালী সমাজ গড়ে উঠতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সংস্কার ভারতীর প্রান্তীয় সদস্য শংকর চৌধুরীও প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন। তিনি রাখিবন্ধনের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, উৎসব তখনই সার্থক হয়ে ওঠে যখন তার অন্তর্নিহিত আদর্শ ও মূল্যবোধ সমাজজীবনে প্রতিফলিত হয়। রাখীর সুতো মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, বিশ্বাস ও দায়িত্ববোধের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার প্রতীক হয়ে উঠুক—এই আহ্বান জানান তিনি।

বরিষ্ঠ নাগরিক সংস্থার সভাপতি নারায়ণ দেবনাথও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তিনি সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। নতুন প্রজন্মকে ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এই ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কল্যাণ আশ্রমের ছাত্রীদের হাতে তৈরি রাখী। অনুষ্ঠান শেষে আশ্রমের ছাত্রীরা উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তি ও অন্যান্যদের হাতে নিজেদের তৈরি রাখি পরিয়ে দেয়। এই পর্বে এক আবেগঘন ও আন্তরিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ছাত্রীরা নিজেদের হাতে তৈরি রাখীর মাধ্যমে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বার্তা সকলের কাছে পৌঁছে দেয়।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি শুধু একটি ধর্মীয় বা আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সামাজিক ঐক্য, পারস্পরিক সৌহার্দ্য, দেশাত্মবোধ এবং মানবিক মূল্যবোধের এক সুন্দর বার্তা বহন করে। কল্যাণ আশ্রমের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *