চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাজে লাগেনি জ্যোতি বসুর দেহ! মরণোত্তর দেহদান নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে বিতর্ক

Spread the news

২৮ আগস্ট : প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর মৃত্যুর ষোলো বছর পর তাঁর মরণোত্তর দেহদান নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন খোদ রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার শঙ্কর নেত্রালয়ের চক্ষুদান সংক্রান্ত সচেতনতামূলক এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তিনি বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু যে দেহটা দান করেছিলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোনও কাজে আসেনি তা”। তিনি আরও জানান, জ্যোতি বসু যদি ব্রেন ডেথ থাকাকালীন ‘লাইভ ডোনেশন’ করতেন, তবেই তা চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাজে আসত। পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষকে গোটা দেহ দান না করে অঙ্গদানের আর্জি জানান। আর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, মুমূর্ষু ব্যক্তির মস্তিষ্কের কোষে যখন অক্সিজেন পৌঁছয় না, তখন তা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ভেন্টিলেটর সাপোর্টের মাধ্যমে রোগীর হার্ট শুধু সচল থাকে। এই সময় ‘ব্রেন ডেথ’ ঘোষণা করা হয়। এই অবস্থায় রোগীর দেহ থেকে কিডনি, লিভার, হার্টের মতো অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব, যাকে ‘লাইভ ডোনেশন’ বলা হয়। কিন্তু রোগীর শ্বাস এবং রক্ত চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হলে তা ‘ক্লিনিক্যাল ডেথ’ হিসেবে গণ্য হয়। তখন আর অঙ্গ প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়। সে সময় গোটা দেহ দান করা হয়, যা মূলত মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগে ডাক্তারি পড়ুয়াদের কাটাছেঁড়ার কাজে লাগে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মৃতদেহ নিয়ে এখন আর শব ব্যবচ্ছেদের দরকার নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে থ্রি ডি ইমেজ তৈরি হচ্ছে, সেখান থেকেই নিখুঁতভাবে শেখা যাচ্ছে। ইউরোপ বা আমেরিকায় ইতিমধ্যেই লাইভ বডি ডিসেকশন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই গোটা দেহ দান করার কোনও যৌক্তিকতা নেই।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। তিনি জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের স্বার্থে দেহদানের নেপথ্যে নবতিপর জ্যোতি বসুর যে দার্শনিক মন ছিল, তা সমাজের অসংখ্য মানুষকে এই মহৎ কাজে উৎসাহিত করেছিল।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর গোটা দেহদানকে অপ্রয়োজনীয় বলার তত্ত্ব মানতে নারাজ নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। তাঁর মতে, এখনও প্রচুর মেডিক্যাল কলেজে মৃতদেহ সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা নেই। রাজ্যের অসংখ্য নতুন সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ এখনও মৃতদেহের জন্য প্রথম সারির পুরনো মেডিক্যাল কলেজগুলির উপর নির্ভরশীল। ফলে আধুনিক প্রযুক্তি এলেও পঠনপাঠনের স্বার্থে মরণোত্তর দেহদানের প্রয়োজনীয়তা এখনও ফুরিয়ে যায়নি বলেই মনে করছেন অ্যানাটমি বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *