২৮ আগস্ট : ইতালিতে মশাবাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৪৩২ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে শতাধিক নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা জোরদার করেছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (আইএসএস) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনাক্ত ৪৩২ রোগীর মধ্যে ২২৩ জনের ক্ষেত্রে ভাইরাসটি নিউরো-ইনভেসিভ পর্যায়ে পৌঁছেছে, অর্থাৎ আক্রান্ত হয়েছে স্নায়ুতন্ত্র। এ ছাড়া ১৪৪ জনের জ্বরের উপসর্গ রয়েছে। রক্তদাতাদের মধ্যে উপসর্গ না থাকা আরও ৬৩ জনের শরীরেও ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
আইএসএস জানিয়েছে, চলতি বছর ইতালির ১৭টি অঞ্চলের ৬৬টি প্রদেশে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে লোম্বার্দিয়া অঞ্চলে—১১৪ জন। এরপর ভেনেতোতে ৭৪, লাৎসিওতে ৬৩, পিয়েমন্তেতে ৬০ এবং এমিলিয়া-রোমানিয়ায় ৪২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, ভাইরাসটি এখন শুধু নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এর উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে।
স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বর্তমানে মৃত্যুহার ৭ দশমিক ২ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় সামান্য বেশি হলেও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে ৪৩০ জন আক্রান্তের মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
এদিকে, ইতালির ভেনেতো ও ফ্রিউলি-ভেনেজিয়া জুলিয়া অঞ্চলে মশার মধ্যেও ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের বিস্তার পাওয়ার প্রমাণ মিলেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার মশা পরীক্ষা করে ৭৩টি পজিটিভ মশার দল শনাক্ত করা হয়েছে। ভেনেতোতে ভাইরাস শনাক্তের হার ৪ শতাংশ এবং ফ্রিউলিতে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের প্রধান বাহক কিউলেক্স প্রজাতির মশা। বন্য পাখি সাধারণত এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক আধার হিসেবে কাজ করে। আক্রান্ত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষ ও ঘোড়ার শরীরে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। সাধারণত মানুষ থেকে মানুষে সরাসরি সংক্রমণ ঘটে না। তবে রক্ত সঞ্চালন, অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং গর্ভাবস্থায় মা থেকে সন্তানের মধ্যে সংক্রমণের বিরল ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
ইতালির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রীষ্ম ও শরৎকালে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। এ কারণে মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ, আক্রান্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং রক্ত ও অঙ্গদানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
আইএসএস জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় আক্রান্তের সংখ্যা ও সংক্রমণের হালনাগাদ তথ্য সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রকাশ করা হচ্ছে।



