শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ আগস্ট : কাটিগড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত জগদীশপুর এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন ডাক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী তথা এলাকার সুপরিচিত ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্ব সন্তোষ দেব। দীর্ঘদিন ধরে কর্কট রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ছিলেন তিনি। অবশেষে বুধবার রাত ৭টা ২০ মিনিটে জগদীশপুরে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। সন্তোষ দেবের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, সহকর্মী এবং অসংখ্য গুণমুগ্ধ মানুষের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় তাঁর বিশেষ পরিচিতি ছিল। দীর্ঘ কর্মজীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তাঁর নিবিড় যোগাযোগ ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
কর্মজীবনে তিনি করিমগঞ্জ সাব-ডিভিশনের অধীন ডাক বিভাগে ওভারসিয়ার (তত্ত্বাবধায়ক) পদে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও দায়িত্বের সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনের পর ২০০৯ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর জীবনে তিনি ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ও সামাজিক কাজে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন। তাঁর অমায়িক ব্যবহার, সরল জীবনযাপন এবং ধর্মীয় অনুরাগের কারণে এলাকায় তিনি সকলের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা, পুত্রবধূ, জামাতা, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণমুগ্ধ। তাঁর প্রয়াণে পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি গোটা এলাকাতেই গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, রাতেই অসংখ্য মানুষের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় সন্তোষ দেবের শেষকৃত্য। প্রিয়জন, আত্মীয়স্বজন ও এলাকার মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হন জগদীশপুরের এই ধর্মপ্রাণ ও সজ্জন ব্যক্তি। তাঁর প্রয়াণে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী।



