শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২৬ আগস্ট : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে সমজেলায় উন্নীত হলো কাছাড় জেলার কাটিগড়া বিধানসভা কেন্দ্র। অসম সরকারের সাধারণ প্রশাসন বিভাগের সচিব নরসিং শম্ভাজী পাওয়ারের জারি করা গ্যাজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে কাটিগড়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমজেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বড়খলা বিধানসভা কেন্দ্রও সমজেলায় উন্নীত হয়েছে।
গত ২৪ আগস্ট জারি হওয়া ওই নোটিফিকেশনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ৩৭৫০৩৭/২৫ নম্বর সরকারি আদেশের ভিত্তিতে অসমের আরও কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের সঙ্গে কাটিগড়া ও বড়খলাকে সমজেলায় উন্নীত করা হয়েছে। একই তালিকায় রয়েছে কমলপুর, বরহমপুর, রঙানদী, চাবুয়া-লাহোয়াল, খুমটাই ও শিশিবারগাঁও।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের অভিভাবক মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমজেলা কার্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। ফলে এবার কাটিগড়ায় পৃথক প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে ওঠার পথও কার্যত প্রশস্ত হলো।
সমজেলা ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কাটিগড়া জুড়ে দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনিক কাজের জন্য ছোটখাটো সমস্যাতেও এতদিন বহু মানুষকে শিলচরে ছুটতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় প্রশাসনিক পরিষেবা মানুষের আরও কাছে পৌঁছবে, সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, জনঅভিযোগ নিষ্পত্তি এবং উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়বে বলেও আশা করছেন তাঁরা।
কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ এই সিদ্ধান্তকে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার বড় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে কাটিগড়াকে সমজেলায় উন্নীত করার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রী তা বাস্তবায়ন করেছেন। বিধায়কের কথায়, ঘোষণার পাশাপাশি এবার গ্যাজেট নোটিফিকেশনও হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আর কোনও সংশয়ের অবকাশ নেই।
আগামী দু-তিন মাসের মধ্যেই সমজেলা কার্যালয়ের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করে নির্মাণকাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিধায়ক। তাঁর মতে, আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে উঠতে পারে কাটিগড়া সমজেলা কার্যালয়। তিনি বলেন, এই সমজেলা শুধু প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন নয়, দীর্ঘদিনের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষারও প্রতিফলন। আগামী দিনে জনসাধারণের সহযোগিতা ও আশীর্বাদ থাকলে কাটিগড়া বরাক উপত্যকার একটি মডেল সমজেলা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
তবে সমজেলা কার্যালয় কোথায় হবে, তা নিয়েও ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিলিমিটেশনের পর কাটিগড়া বিধানসভা কেন্দ্রের ভৌগোলিক পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শ্রীভূমি জেলার বদরপুরের কয়েকটি পুর এলাকা এবং বড়খলা বিধানসভার একাধিক পঞ্চায়েত এলাকা কাটিগড়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যালয়ের অবস্থান নির্ধারণ এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অধিকাংশ কাটিগড়া সার্কল কার্যালয় চত্বরেই সমজেলা কার্যালয় স্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন। আবার অন্য একটি অংশের যুক্তি, গোটা বিধানসভা এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করলে কালাইনের হিলাড়া ব্লক এলাকা তুলনামূলকভাবে কেন্দ্রীয় অবস্থানে রয়েছে এবং সেখানে সরকারি জমিও রয়েছে। তাই মানুষের যাতায়াত ও প্রশাসনিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে হিলাড়ায় সমজেলা কার্যালয় গড়ে তোলার দাবি উঠেছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
কাটিগড়ার সমজেলা হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে শুধু প্রশাসনিক মর্যাদাই বাড়ল না, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও পরিষেবার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে গেল। এখন নজর কত দ্রুত নতুন প্রশাসনিক কাঠামো বাস্তবে রূপ নেয় এবং তার সুফল কতটা সরাসরি পৌঁছায় সাধারণ মানুষের কাছে।



