পিএনসি, গুয়াহাটি।
বরাক তরঙ্গ, ২৬ আগস্ট : লঙ্কা-ময়নারবন্দ বিকল্প রেললাইন নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করার পাশাপাশি এ বিষয়ে জেডআরইউসিসির বৈঠকে সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণের দাবি উঠল। মঙ্গলবার মালিগাঁওয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জোনাল রেলওয়ে ইউজার্স কনসালটেটিভ কমিটি (জেডআরইউসিসি)-র ৯৮তম বৈঠকে এই দাবি জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব।
বৈঠকে করিমগঞ্জের লোকসভা সদস্য কৃপানাথ মালা লঙ্কা-ময়নারবন্দ বিকল্প রেললাইন নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি হাইলাকান্দি, লালা, দুল্লভছড়া ও কাটলিছড়া রেলস্টেশনের পরিসর বৃদ্ধি এবং আধুনিকীকরণের দাবিও জানান তিনি। মালার দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে জেডআরইউসিসির সদস্য হারাণ দে লঙ্কা-ময়নারবন্দ রেললাইনের কাজ শুরু করতে অবিলম্বে আর্থিক অনুমোদনের দাবি জানান। দক্ষিণ অসমের পাশাপাশি মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরার যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য প্রস্তাবিত এই রেললাইনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বৈঠকে এ বিষয়ে সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, শিলচর রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বর্তমানে নতুন ট্রেন চালু করা কঠিন। তাই দুধপাতিলে দ্রুত একটি নতুন রেলস্টেশন নির্মাণের দাবি জানান তিনি। রেলের পক্ষ থেকে লাঠিগ্রামে প্রস্তাবিত স্টেশনকে শিলচরের বিকল্প স্টেশন হিসেবে বিবেচনা করার প্রসঙ্গে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, লাঠিগ্রাম লঙ্কা-ময়নারবন্দ রেললাইনের অন্তর্ভুক্ত। ফলে ওই রেললাইন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

এছাড়াও গগামুখ-মাজুলী হয়ে জোরহাট পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণের অনুমোদন, বদরপুরে রোড ওভারব্রিজ নির্মাণ, মহিষাসন-শিলচর ট্রেনের নাম ‘মালেগড় সিপাহী বিদ্রোহী ট্রেন’ করার দাবি জানান। ধুবড়ি-শিলঘাট ট্রেনের পরিষেবা সপ্তাহে তিন দিনের পরিবর্তে প্রতিদিন করার পাশাপাশি রঙ্গিয়া-শিলচর ট্রেনে চুরি-ছিনতাই বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও ওঠে।
মুম্বাই-গুয়াহাটি এক্সপ্রেসের নাম ‘সুধাকণ্ঠ ভূপেন হাজারিকা’র নামে করার প্রস্তাব দিলে জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব জানান, রেলের নিয়ম অনুযায়ী কোনও ব্যক্তির নামে ট্রেনের নামকরণের বিধান নেই। বৈঠকে জেডআরইউসিসির সদস্য ড. পণ্ডিত সঞ্জীব নারায়ণ দাশ রেলস্টেশনগুলিতে বয়স্ক যাত্রীদের জন্য হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংসদ খগেন মুর্মু, জয়ন্তকুমার রায়, তাপির গাও, ইন্দ্র হাং সুব্বা ও এস ফাংনন কোনিয়েক। এছাড়া নাগাল্যান্ডের বিধায়ক এস ফঙগি পোম ও মিজোরামের বিধায়ক ক্রিমেন্ট লালমিংথাঙাও অংশ নেন। বৈঠকের শুরুতে স্বাগত ভাষণ দেন রেলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার অনুরাগ আগরওয়াল।



