২৬ আগস্ট : নেপালের রসুয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় উৎসারিত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার জল নুওয়াকোট জেলার গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকাগুলিতে ঢুকে পড়েছে। একইসঙ্গে প্রবল স্রোতে জল ধাদিং ও চিতওয়ানের দিকে নেমে যাচ্ছে। রসুয়ার টিমুরে সীমান্ত চৌকিতে (বিওপি) মোতায়েন থাকা সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) ৯ জন সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার ও যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা চলছে। নুওয়াকোটের বেত্রাবতী, ত্রিশূলী, ঢুঙ্গে ও দেবীঘাটসহ নদীতীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাজার কেন্দ্রগুলিতে বন্যার জল ঢুকে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত জেলায় কোনও প্রাণহানির খবর নিশ্চিত হয়নি। তবে নদীর জল বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী রাস্তা, ভবন ও অন্যান্য পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যথেষ্ট বড়। তবে জরুরি পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা সম্ভব হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মোতায়েন নিরাপত্তাকর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন। জলস্তর অত্যন্ত বেশি থাকায় বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে পৌঁছাতেও সমস্যা হচ্ছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ৯ এপিএফ সদস্য
বন্যার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় মোতায়েন নিরাপত্তাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এপিএফ সূত্রে জানা গেছে, রসুয়ার টিমুরে সীমান্ত চৌকিতে কর্মরত ৯ জন সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের অবস্থান জানার পাশাপাশি যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকারী দলগুলি এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। তবে বন্যার তীব্রতা এবং দুর্গম পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজ ও মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহে বিলম্ব হচ্ছে।
রসুয়ার ভোতে কোশি নদী থেকে নেমে আসা প্রবল জলস্রোত ত্রিশূলী নদীতে মিশে দ্রুতগতিতে ভাটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বুধবার সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে প্রকাশিত বন্যা সংক্রান্ত সতর্কবার্তায় নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগের বন্যা পূর্বাভাস শাখা জানায়, বন্যার প্রবল স্রোত ধাদিংয়ের গালছি এলাকায় পৌঁছে গেছে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মুগলিং অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদীতীরবর্তী বসতি ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ করিডরের আশপাশের বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পৃথ্বী হাইওয়ে এবং মুগলিং–নারায়ণগড় মহাসড়কের ত্রিশূলী নদী সংলগ্ন বাজার এলাকাগুলি দ্রুত খালি করার জন্য বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
রসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ান—এই চার জেলার প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। একইসঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধান, উদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।



