২১ আগস্ট : ইয়েমেন ও সোমালিয়ার উপকূলের কাছে জলদস্যুর কবলে পড়ল মালবাহী দু’টি জাহাজ। একটিতে ছিল অস্ত্র, অন্যটিতে তেল। জাহাজে হানা দেয় জলদস্যুরা। বন্দি করে নাবিকদের। চলে দেদার লুটপাট। বন্দি নাবিকদের মধ্যে ২২ জন ভারতীয়। তাঁদের অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত কোনও তথ্য না মেলায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
প্রথম জাহাজটি ক্যামেরুনের পতাকাবাহী। তুরস্কের টেকিরদাগ বন্দর থেকে অস্ত্র বোঝাই করে ওই জাহাজ তানজানিয়ার দার এস সালামে যাচ্ছিল। সোমালিয়ার পন্টল্যান্ড উপকূলে হানা দেয় জলদস্যুরা। জাহাজটিতে মোট ১০ জন কর্মী ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছ’জন ভারতীয়। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রত্যেককে বন্দি বানিয়ে নুগাল উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া আর কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
সোমালিয়ার স্থানীয় এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পন্টল্যান্ডের ইল জেলার মারাইয়া উপকূল থেকে প্রায় সাড়ে তিন নটিক্যাল মাইল দূরে হানা দেয় ৮ জলদস্যু। জাহাজটি Polar Movement Shipping নামে একটি সংস্থার। তাতে মোগাদিশুর একটি তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ছিল। সেগুলি ছিনতাই করতেই হামলা বলে সন্দেহ। জাহাজে ছ’জন ভারতীয় ছাড়াও এক জন তুর্কি, এক জন জর্জিয়ান এবং দু’জন সার্বিয়ান নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে এডেন উপসাগরে। ইয়েমেনের উপকূল থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে ইরিত্রিয়ার পতাকাবাহী M.T. Sibu 1-এ হানা দেয় ৬ জন জলদস্যু। ওই জাহাজে তেল ছিল। ২০ জন নাবিক ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ১৬ জন ভারতীয়। ডিরেক্টরেট অফ মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, জাহাজের সব কর্মীই নিরাপদে রয়েছেন।
ওই জাহাজে ১৬ জন ভারতীয় ছাড়াও সিরীয়া, সুদান ও ইরাকের নাগরিকরা ছিলেন। আরও এক নাবিকের নাগরিকত্ব এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পরে e-Navik অনলাইন মেরিটাইম ক্যাজুয়ালটি রিপোর্টিং সিস্টেমে নিয়মিত আপডেট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। SKS Krishiv Marine Services-এর সুমিত কান্ত সিং জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থাই ওই জাহাজের চার জন কর্মীকে নিয়োগ করেছিল। তাঁদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য ইতিমধ্যেই সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছবি প্রতীকী।



