বরাক তরঙ্গ, ২০ আগস্ট : ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নবাগত স্নাতকোত্তর প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাতে বুধবার গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দীক্ষারম্ভ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে নবাগত পড়ুয়াদের উদ্দেশে শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ গড়ার বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিলচর রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের স্বামী বৈকুণ্ঠানন্দজি মহারাজ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিরঞ্জন রায়, নিবন্ধক ড. বিদ্যুৎ কান্তি পাল, শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ, ছাত্রকল্যাণের ডিন ড. জয়দীপ পাল, বিজ্ঞান বিভাগের ডিন অধ্যাপক নীলেন্দু ধর, বাণিজ্য বিভাগের ডিন অধ্যাপক সঞ্জীব ভট্টাচার্য এবং ভাষা বিভাগের ডিন অধ্যাপক পান্থপ্রিয় ধর। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা ও শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগের উদ্যোগে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘গুরুচরণ ইউনিভার্সিটি—টু ওয়ার্ড এক্সেলেন্স’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছাত্রকল্যাণের ডিন ড. জয়দীপ পাল।
নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বামী বৈকুণ্ঠানন্দজি মহারাজ তাঁদের স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনযাত্রাকে কীভাবে একটি ঐশ্বরিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে দেখা যায়, সেই উপলব্ধি গড়ে তোলা জরুরি। এই মূল্যবোধ ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক মহাপুরুষের জীবন আমাদের সামনে একেকটি আদর্শ ও অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এমন বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে, যা মানুষকে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। নবাগত শিক্ষার্থীদের সেই আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে জ্ঞান, মূল্যবোধ ও মানবিকতার সমন্বয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।



