১৯ আগস্ট : প্রণামি সংগ্রহের দায়িত্ব ট্রাস্টের। প্রণামি বাক্স, দানপাত্র রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ট্রাস্টের। নিরাপত্তারক্ষী কিংবা প্রণামি গণনার কর্মীদের নিয়োগের অধিকারী ট্রাস্ট। যার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগের আঙুল, সে হল ট্রাস্টের সম্পাদকের গাড়িচালক। প্রবল অভিযোগের স্রোতে এবং চাপে ইস্তফা পর্যন্ত দিতে হয়েছে সেই সম্পাদক সহ দু’জনকে। কিন্তু অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামি চুরির তদন্তে শ্রীরামের জন্য নিবেদিত ভক্তদের প্রণামি, দানের সম্পদরক্ষার দায়িত্ব যাদের, সেই ট্রাস্টের সকলকেই ক্লিনচিট দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকারের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম! দু’টি স্তরে তদন্ত করছে সিট। প্রথম দফার তদন্তেই তারা রামমন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং সদস্য অনিল মিশ্রকে সব সন্দেহের তালিকা থেকে মুক্তি দিয়ে রিপোর্ট তৈরি করেছে। সোমবারই সুপ্রিম কোর্ট যোগী সরকারের এই তদন্তকারী টিমকে ক্ষোভের সুরে বলেছিল, আর কতদিন ধরে তদন্ত চলবে? দু’সপ্তাহ সময় দেখা হয়েছিল রিপোর্ট দেওয়ার জন্য। আর মঙ্গলবারই জানা গেল, এই তদন্তে প্রাথমিক উপসংহারে পৌঁছে গিয়েছে সিট। সেখানে চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি! তাঁদের যোগসাজশও মেলেনি। যদিও দ্বিতীয় দফায় আরও বিস্তারিত এবং সম্প্রসারিত তদন্ত চলছে বলে দাবি।
বিজেপি, মোদি সরকার এবং যোগী আদিত্যনাথ সরকার—সকলেই জুন মাস থেকে বিরোধীদের আক্রমণের মুখে। নিট বিতর্ক এবং রামমন্দিরে চুরি। দুই ইস্যুতে নাজেহাল ও দিশাহারা বিজেপি। বিরোধীদের প্রশ্ন, রামমন্দিরে রক্ষক মন্দির ট্রাস্ট, রামমন্দিরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, প্রাণপ্রতিষ্ঠা করলেন তিনি, গোটা মন্দির ও অযোধ্যার নিরাপত্তার দায়িত্বে যোগী সরকার, অথচ নিয়ম করে প্রণামি চুরির দায় তাঁরা কেউ নেবেন না? প্রাথমিক দফার তদন্তে জানা গিয়েছে, এ বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুন পর্যন্ত সময়সীমায় রামমন্দিরের প্রণামি বাক্স থেকে ৭০ বার টাকা এবং সোনাদানা সরানো হয়েছে। সিসি ক্যামেরায়, নিরাপত্তায় অনেক ফাঁকফোকর মিলেছে। খুব বেশি কড়াকড়ি ছাড়াই বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে দেখা গিয়েছে। ২৫ জুন প্রথম এফআইআর করা হয়েছিল। ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সবথেকে বেশি তোপের মুখে পড়েন চম্পত রাই। রামমন্দির আন্দোলন থেকে মন্দির নির্মাণ এবং মহাভিষেক— গোটা পর্বে তিনি ছিলেন অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র। আর রামমন্দির ট্রাস্টের সবথেকে ক্ষমতাশালীও। তাঁর গাড়িচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, এত কিছু ট্রাস্টের চোখের সামনে হয়ে চলেছে, আর তার কিছুই ট্রাস্ট সদস্য ও কর্তারা জানেন না! এটা কীভাবে সম্ভব? চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র ট্রাস্ট থেকে পদত্যাগ করেন। কিন্তু সিটের জেরায় আগাগোড়া তাঁরা বলে এসেছেন, ‘কিছুই জানি না।’ তদন্তকারী টিম রিপোর্ট জমা দিয়েছে যোগী সরকারকে। আর সোমবার সেই রিপোর্ট যোগী আদিত্যনাথ সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তর দিয়েছে রামমন্দির তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের হাতে। যদিও দ্বিতীয় যে তদন্তকারী টিম তদন্ত করছে, সেটি আরও তদন্ত করবে এবং রিপোর্ট দেবে পরে। এই তদন্তকারী টিমের দায়িত্বে লখনউয়ের আইজি কিরণ এস। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ ভোট। কোণঠাসা মোদি-যোগীকে নিশ্চিতভাবেই অক্সিজেন দিল সিটের রিপোর্ট। দায়মুক্ত হতে চলেছে রামমন্দির ট্রাস্ট! চুরির দায় তাহলে শুধুই সিকিওরিটি ও গণনাকর্মীর?



