সামাজিক মাধ্যমে আল্লামা সারিমুল হককে নিয়ে কটূক্তি, থানায় আবেদন

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৭ আগস্ট :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশিষ্ট ইসলামিক পণ্ডিত হযরত আল্লামা মাওলানা সারিমুল হককে উদ্দেশ্য করে কথিত অশালীন, আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শ্রীভূমিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শ্রীভূমি সদর থানায় লিখিত আবেদন দাখিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, সেটেলমেন্টের প্রখ্যাত পীর-সূফী সৈয়দ মুফিদুল হোসাইন মাদানি সাহেবের প্রতিনিধি হিসেবে এমাদ উদ্দিন আত্তারি ওই আবেদন দাখিল করেছেন। আবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কথিত আপত্তিকর পোস্ট, মন্তব্য ও অন্যান্য বিষয়ের উল্লেখ করে পুলিশি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনকারীদের বক্তব্য, আল্লামা সারিমুল হক লস্কর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইসলামিক সমাজে একজন পরিচিত ও সম্মানিত আলেম। তিনি বহু আলেম-উলামার শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি তিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মুখ্য উপদেষ্টা এবং হাইলাকান্দি টাইটাল মাদ্রাসার প্রাক্তন অধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ্য করে ধারাবাহিকভাবে অশালীন, আপত্তিকর ও অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি। অভিযোগের আওতায় মকবুল হোসেন ও সামসুল হক তালুকদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীরা জানান, তাঁরা কোনও ধরনের সংঘাত, প্রতিশোধ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষে নন। সম্পূর্ণ বিষয়টি প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে।

থানায় দাখিল করা আবেদনে সংশ্লিষ্ট পোস্ট, কমেন্ট, ভিডিও, স্ক্রিনশট, পোস্টের লিংকসহ অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির কার্যকলাপ খতিয়ে দেখে মন্তব্যগুলির প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং সেগুলি আইনত অপরাধের আওতায় পড়ে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারীদের আরও আবেদন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনও পোস্ট বা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যাতে এলাকায় অশান্তি বা সামাজিক বিভাজনের পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে যেকোনো বিরোধের ক্ষেত্রে আইনগত পথ অনুসরণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *