স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক পাঠ নিয়ে আলোচনা আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৪ আগস্ট : স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির পরিবর্তন, বৈচিত্র্য, অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক আলোচনা চক্র। ‘স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক পাঠ’ শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক সেমিনার ১২ ও ১৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপিনচন্দ্র পাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

১২ আগস্ট সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সেমিনারের সূচনা হয়। স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও সেমিনারের সমন্বয়ক অধ্যাপক রিন্টু দাস। উদ্বোধনী ভাষণ দেন উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ। বক্তব্য রাখেন আইকিউএসি-র পরিচালক অধ্যাপক পীযূষ পাণ্ডে, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রবীর প্রামাণিক, গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সঞ্জয় ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট সাহিত্যিক বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও সেমিনারের সমন্বয়ক অধ্যাপক রমাকান্ত দাস।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সুমন গুণ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হেমলতা কেরকেট্টা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিন, স্টুডেন্টস’ ওয়েলফেয়ার এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও সেমিনারের সমন্বয়ক অধ্যাপক বরুণজ্যোতি চৌধুরী। উদ্বোধনের পর শুরু হয় একাধিক বিদ্যায়তনিক অধিবেশন। প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক দীপেন্দু দাস। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক প্রবীর প্রামাণিক, অধ্যাপক সঞ্জয় ভট্টাচার্য, সাহিত্যিক বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কবি সক্ষ গুণ।

এরপর বাংলা বিভাগের উদ্যোগে একাধিক সমান্তরাল কারিগরি অধিবেশনে শিক্ষক, গবেষক ও গবেষণার্থীরা তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। প্রথম দিনের অধিবেশনগুলিতে বাংলা সাহিত্য, দেশভাগ, উদ্বাস্তু জীবন, দলিত চেতনা, প্রান্তিক মানুষের জীবন, লোকসংস্কৃতি, সামাজিক আন্দোলন, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সমাজ, নারীচেতনা, উত্তর-পূর্ব ভারতের সমাজ-সংস্কৃতি, চা-জনজাতির জীবন ও সংস্কৃতি এবং স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের সামাজিক রূপান্তরসহ বিস্তৃত বিষয়ে আলোচনা হয়।

গবেষণাপত্রগুলিতে নগরায়ণ ও বিশ্বায়ন, বাংলা সাহিত্যের পরিবর্তন, মধ্যবিত্ত মানসিকতা, ওড়িশার সাংস্কৃতিক নবজাগরণ, উত্তর-পূর্ব ভারতে বাঙালির সামাজিক অভিযোজন, দেশভাগের স্মৃতি, উদ্বাস্তু জীবন, দলিত ও আদিবাসী চেতনা, লোকঐতিহ্য, ভারতীয় চলচ্চিত্রে সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতিফলন এবং প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সমাজের প্রভাব বিশেষ গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি নারীশিক্ষার বিস্তার, উত্তর-পূর্ব ভারতের নারীদের জীবন, সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব, বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিবাহপ্রথা, ধর্মীয় ও অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস, অসমের গ্রামীণ সমাজের ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলার মন্দির স্থাপত্য এবং চা-জনজাতির জনপ্রিয় সংস্কৃতি নিয়েও আলোচনা হয়।

১৩ আগস্ট দ্বিতীয় দিনের অধিকাংশ কারিগরি অধিবেশন অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। দেশ-বিদেশের শিক্ষক ও গবেষকরা ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। বাংলাদেশের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম লিড স্পিকার হিসেবে অংশ নেন। দ্বিতীয় দিন বিশ্বায়নের অভিঘাতে বাংলা লোকসঙ্গীত, লিঙ্গরাজনীতি, কলকাতার স্থানিক রূপান্তর, দলিত ও প্রান্তিক সাহিত্য, দেশভাগ ও উদ্বাস্তু সমস্যা, রবীন্দ্রসঙ্গীত, ভারতীয় চলচ্চিত্র, উত্তর-পূর্ব ভারতের আদিবাসী লোকসঙ্গীত, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলা নাটকে পাশ্চাত্যের প্রভাব, বাংলা সংঙ্গীতের নবজাগরণ, ডিজিটাল শিক্ষা, স্বাধীনতা-উত্তর অসমের সমাজজীবন ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা হয়।
পরবর্তী অধিবেশনগুলিতে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলা সাহিত্য, উদ্বাস্তু সমস্যা, নারীর আত্মজাগরণ, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, লোকসংস্কৃতির পরিবর্তন, বিশ্বায়নের প্রভাব, চলচ্চিত্র, পরিবেশ, আদিবাসী সমাজ, বরাক উপত্যকার প্রান্তিক নারীদের আর্থ-সামাজিক জীবন, দেশভাগের অভিঘাত এবং সংস্কৃতি ও আধুনিকতার দ্বন্দ্বসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *