বরাক তরঙ্গ, ১৪ আগস্ট: গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাইলাকান্দি জেলার চিপরসাঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চিপরসাঙ্গন দ্বিতীয় খণ্ড এলাকার বাসিন্দা হাসিনা বেগম মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর হাসিনার স্বামী সাহেদ আহমেদ মজুমদারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জুয়াইদ আলি মজুমদারের মেয়ে হাসিনা বেগমের রাঙ্গাউটি প্রথম খণ্ড এলাকার কদর আলি মজুমদারের ছেলে সাহেদ আহমদ মজুমদারের সঙ্গে প্রায় সাত বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর পরকীয়াকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরে হাসিনার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে তাঁর হাতে আঘাত লাগে বলেও অভিযোগ। এরপর তাঁকে জোর করে বিষজাতীয় কোনও পদার্থ খাওয়ানো হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন প্রতিবেশী গোপনে হাসিনার বাবার বাড়ির লোকজনকে বিষয়টি জানান। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাইলাকান্দি সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটি ৩ আগস্টের। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাঁকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই পরদিন ৪ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর হাইলাকান্দি সদর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। ইতিমধ্যে মৃতার স্বামী সাহেদ আহমেদ মজুমদারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলেও দাবি তাঁদের। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পেছনে শাশুড়িরও ভূমিকা থাকতে পারে। তাই তাঁকেও গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
মৃতার পরিবার ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তোলা অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশি তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের ভূমিকা স্পষ্ট হবে। এ ঘটনায় বিপক্ষের কোনও বয়ান পাওয়া যায়নি।



