বরাক তরঙ্গ, ১০ আগস্ট : ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার ৫৪ বছর পূর্ণ করল শিলচরের স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘গণ-সুর’। রবিবার সন্ধ্যায় শহরের গোপীনাথ ব্যাংকুয়েট হলে সংগঠনের ৫৪তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন স্বাদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় এদিন পুরো প্রেক্ষাগৃহ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
অনুষ্ঠানের সূচনায় গণ-সুরের সভাপতি অঞ্জন স্বামী ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস সোম সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসের তাৎপর্য এবং দীর্ঘ পথচলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা গণ-সুরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অবদান এবং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সদস্যদের নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রমের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। আগামী দিনে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তাঁরা।
এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। নৃত্যশিল্পী ঋতিশা ভট্টাচার্যের উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে প্রাণ সঞ্চার হয়। পরে একক ও সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন রুমি রায়, পারমিতা পাল, দেবার্চনা স্বামী, চুমকি দাস, মৌসুমী খান, সুমা রায়, সুচরিতা কর-সহ অন্যান্য শিল্পী। তাঁদের সুরেলা পরিবেশনা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গণ-সুরের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছয়জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান। সম্মানিত সদস্যরা হলেন প্রদীপ দাস, আশীষ ভৌমিক, গৌরাচাঁদ রায়, বিজয় খান, রথীন্দ্র বিশ্বাস ও জয়ন্ত কিশোর দাস। সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁদের উত্তরীয় পরিয়ে ও স্মারকপত্র তুলে দিয়ে সম্মান জানানো হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠাকালীন নানা স্মৃতি ও সংগ্রামের কথা আবেগঘনভাবে তুলে ধরেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানটি সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন গণ-সুরের বরিষ্ঠ নাট্যব্যক্তিত্ব সুব্রত রায় (শম্ভু)। সমাজ ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দর্শক-শ্রোতাদের মতে, ৫৪ বছরের ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে গণ-সুরের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের এই ধারাবাহিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রবীণ ও নবীন প্রজন্মের সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতেও এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।



