ছাত্রভর্তিতে অনিয়মের অভিযোগে ‘নিষ্ক্রিয়তা’! এক মাস আগেই এফআইআর, জানাল আসাম বিশ্ববিদ্যালয়

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১০ আগস্ট : আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রভর্তি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যে নিষ্ক্রিয়তার কথা বলা হয়েছে তার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। সামাজিক মাধ্যমের পাশাপাশি লিখিতভাবে দাখিল করা ছাত্রভর্তি সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রায় এক মাস আগেই তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং সেই তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করে। এরপরও সোমবার আচমকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারের সামনে কিছু ছাত্র বিক্ষোভ দেখান। কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গেই উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রবেশপথ অবরোধ তুলে নেওয়ার আবেদন জানান। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় পরে উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থের উপস্থিতিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে নিবন্ধক ড. প্রদোষ কিরণ নাথ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই গত ৮ জুলাই ডিন, একাডেমিক্সের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং বিভিন্ন নথি ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে। অডিও ক্লিপিংস ফরেনসিক তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে এফআইআর দাখিলেরও সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্তে উঠে আসা বিষয় এবং প্রাপ্ত নথিপত্রের ভিত্তিতে গত ১৩ জুলাই ধোয়ারবন্দ থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। সেইসঙ্গে পুলিশের হাতে অডিও সহ প্রাসঙ্গিক নথি এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও তুলে দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তে পুলিশকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে আন্দোলনকারীদের সামনে সব তথ্য তুলে ধরার পরও তারা তাদের অবস্থানে অনড় থাকেন এবং অভিযুক্ত ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রাজকিংকর চক্রবর্তীকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার দাবি জানান। উপাচার্য অধ্যাপক পন্থ জানান, বিষয়টি বর্তমানে পুলিশের তদন্তাধীন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এখনও কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ বা তদন্ত-রিপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে আসেনি। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মেনে তাঁকে বহিষ্কার বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।

বৈঠকে ডিন, স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অধ্যাপক বরুণজ্যোতি চৌধুরী জানান, নির্বাচিত ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতিকে অপসারণের ক্ষেত্রে ছাত্র ইউনিয়নের সংবিধানে নির্দিষ্ট ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। উপাচার্য সংশ্লিষ্ট বিধি খতিয়ে দেখে নির্বাচিত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তা পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তবে আন্দোলনরত ছাত্ররা সেই প্রস্তাবে সম্মত হননি। এরপরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। যদিও শেষ পাওয়া খবরে, আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিবন্ধক ড. নাথ জানিয়েছেন, ভর্তি প্রক্রিয়া অধ্যাপকদের নিয়ে গঠিত অ্যাডমিশন কমিটির মাধ্যমে নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়। বৈধ ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে কোনও ছাত্র বা বহিরাগত ব্যক্তি অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে থাকলে, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা পুলিশি তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট অডিওর ফরেনসিক যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পরই তা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *