বর্ষায় নৌকাই ভরসা, শিলচরের অদূরে রাখালখালেরপারে বছরের পর বছর দুর্ভোগ

Spread the news

মান্তু নাথ, বড়খলা।
বরাক তরঙ্গ, ১০ আগস্ট :
শিলচর শহরের অদূরেই বছরের পর বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারাপুর জিপির রাখালখালেরপারের অর্ধশতাধিক পরিবারের বাসিন্দারা। বর্ষা এলেই কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। রাস্তা দীর্ঘ সময় জলের তলায় থাকায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় নৌকা। স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ ও রাস্তা উঁচু করার দাবিতে এবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরাসরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, চৈত্র মাস থেকে আশ্বিন পর্যন্ত বছরের দীর্ঘ সময় রাস্তার বিভিন্ন অংশে জল জমে থাকে। কোথাও আবার কাদার কারণে পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিদিনের যাতায়াতের পাশাপাশি জরুরি পরিষেবা পেতেও চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বাসিন্দাদের।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন অসুস্থ রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। বর্ষাকালে যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি কারও মৃত্যু হলে মৃতদেহ সৎকারের জন্য নিয়ে যেতেও চরম সমস্যার মুখে পড়তে হয়। জল-কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে গিয়েও সমস্যায় পড়তে হয় এলাকার পড়ুয়াদের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, একসময় অঞ্চলটি বড়খলা বিধানসভার রাজনগর জিপির অন্তর্ভুক্ত ছিল। পঞ্চায়েত স্তরে রাস্তার কাজের নামে ফলক বসানো হলেও বাস্তবে মাত্র দুই-তিন গাড়ি মাটি ফেলে কাজ শেষ করে দেওয়া হয়েছে। স্থায়ীভাবে রাস্তা নির্মাণ কিংবা রাস্তা উঁচু করার কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে।

বাসিন্দাদের ক্ষোভ, নির্বাচন আসে, নির্বাচন যায়—সঙ্গে আসে একের পর এক প্রতিশ্রুতি। কিন্তু তাঁদের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হয় না। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়ে এলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।

এই অবস্থায় দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন রাখালখালের পাড়ের বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, দ্রুত রাস্তার স্থায়ী সংস্কার ও উঁচুকরণের ব্যবস্থা করা হোক। বর্ষাকালেও যাতে নৌকার ওপর নির্ভর না করে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে পারেন এলাকার মানুষ, সেই ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *