বরাক তরঙ্গ, ৪ আগস্ট : দরিদ্র ও প্রান্তিক মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে গঠিত নাইট অ্যাঙ্গেল স্বনির্ভর গোষ্ঠী (এসএইচজি)-কে কেন্দ্র করে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সদস্যদের দাবি, তাদের অজান্তেই ব্যাঙ্ক থেকে অর্থ উত্তোলন, গোষ্ঠীর নামে ঋণ গ্রহণ এবং সরকারি অনুদান বণ্টনে অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দলের সম্পাদিকা সালেহা খানম বড়খলার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আসাম গ্রামীণ বিকাশ ব্যাংকের বরযাত্রাপুর শাখা থেকে একটি চেকের মাধ্যমে ৩৩ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, অথচ এ বিষয়ে গোষ্ঠীর সদস্যদের কোনো অনুমোদন বা সম্মতি ছিল না।
অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁরা কখনও ওই চেক ইস্যু করেননি কিংবা কাউকে অর্থ উত্তোলনের অনুমতিও দেননি। অভিযোগে বলা হয়েছে, সঙ্গম সিএলএফ-এর সভানেত্রী নিলুফা ইয়াসমিন বড়ভূইয়ার স্বামী সজীব আহমদ বড়ভূইয়ার বিরুদ্ধে এই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। তবে চেকে অন্য একটি নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সদস্যদের প্রশ্ন, কার স্বাক্ষরে চেক ইস্যু করা হয়েছে এবং ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কীভাবে এই লেনদেন অনুমোদন করেছে। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি বিষয়টি লিখিতভাবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত সন্তোষজনক কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ।
এছাড়া নাইট অ্যাঙ্গেল এসএইচজির নামে সদস্যদের অজান্তে ঋণ গ্রহণের অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঋণের আবেদনপত্র বা সংশ্লিষ্ট নথিতে কোনো সদস্যের স্বাক্ষর নেই। ফলে ঋণ মঞ্জুরের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মহিলা উদ্যোমিতা অভিযানের আওতায় প্রদত্ত ১০ হাজার টাকার সরকারি ভর্তুকি এমন একজনের নামে দেওয়া হয়েছে, যিনি গোষ্ঠীর প্রকৃত সদস্য নন। এ বিষয়ে উপভোক্তা নির্বাচন ও অর্থ বণ্টনের প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সদস্যরা
গোষ্ঠীর সম্পাদিকা সালেহা খানম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম মেনে গোষ্ঠীর কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সম্প্রতি সদস্যদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগপত্রে গোষ্ঠীর ক্ষতিগ্রস্ত তহবিল উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।



