বরাক তরঙ্গ, ৩ আগস্ট : সমাজসেবা ও ক্রীড়া কার্যক্রমে দীর্ঘ ২৫ বছরের পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে বেসরকারি সামাজিক ও ক্রীড়া সংস্থা ‘খোঁজ’-এর উদ্যোগে প্রকাশিত হলো রজতজয়ন্তী বিশেষ স্মরণিকা। রবিবার সন্ধ্যায় শিলচর সংগীত বিদ্যালয়ের ‘মুকুন্দ দাস–কালিকা প্রসাদ’ স্মৃতি মঞ্চে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা একবাক্যে বলেন, “খোঁজ এখন আর শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি একটি প্রতিষ্ঠান, একটি অনুপ্রেরণা এবং সামাজিক আন্দোলনের প্রতীক।”
সংস্থার সভাপতি ডা. মোহাম্মদ মাসুম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি, আমন্ত্রিত অতিথি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা খোঁজের ২৫ বছরের সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড, ক্রীড়া উন্নয়নে অবদান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গ-এর সম্পাদক ও সমাজসেবী তৈমুর রাজা চৌধুরী বলেন, খোঁজ দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সমাজসেবামূলক কাজ করে চলেছে। তাঁর মতে, প্রকাশিত স্মরণিকাটি শুধু একটি প্রকাশনা নয়, বরং সময়ের এক মূল্যবান দলিল, যা ভবিষ্যতের গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার হিসেবে বিবেচিত হবে। সোনাই এমসিডি কলেজের উপাধ্যক্ষ, শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. আব্দুল মতিন লস্কর বলেন, ইতিহাস অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করে। খোঁজ অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান ড. বিশ্বতোষ চৌধুরী বলেন, বরাক উপত্যকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি। খোঁজের এই স্মরণিকা ভবিষ্যতের ইতিহাস রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে সংস্থার অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি।
বিশিষ্ট শল্যচিকিৎসক ডা. সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য বলেন, “খোঁজ এখন এক আন্দোলনের নাম।” মানুষের কল্যাণে সংস্থার ধারাবাহিক কাজ সমাজের কাছে অনুকরণীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রাক্তন সভাপতি ও জাতীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ক্রীড়া সংগঠক বাবুল হোড় বলেন, এই স্মরণিকা শুধু একটি ম্যাগাজিন নয়, বরং খোঁজের ২৫ বছরের ইতিহাস। ভবিষ্যতেও সংস্থার বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও সমাজকর্মী সাব্বির আহমদ চৌধুরী বলেন, সমাজসেবার ক্ষেত্রে খোঁজ আজ বহু তরুণের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, পদ্মশ্রী ও কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতালের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. রবি কান্নান বলেন, “আমি খোঁজ এবং খোঁজের কর্মকাণ্ডকে ভালোবাসি। শত ব্যস্ততার মধ্যেও এই সংগঠনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করি।” তিনি স্মরণিকা প্রকাশকে একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সংস্থার ঐতিহ্য ও অবদান পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী জয় বরদিয়া, রেডিয়েন্ট স্কুলের পরিচালন সঞ্চালক কমরুল ইসলাম মজুমদার এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বাহারুজ্জামান লস্কর।
প্রকাশিত স্মরণিকায় ১৯৯৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত খোঁজের সমাজসেবা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া কার্যক্রমের বিস্তৃত বিবরণ, সাফল্য, সংগ্রাম, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, বিশিষ্টজনদের প্রবন্ধ, স্মৃতিচারণ, অজানা তথ্য ও নানা স্মরণীয় মুহূর্ত স্থান পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সভাপতি ডা. মোহাম্মদ মাসুম, সাধারণ সম্পাদক সজল লস্কর, সহ-সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান খান, কোষাধ্যক্ষ কামাল লস্কর-সহ সংস্থার সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

স্মরণিকার সম্পাদক কল্যাণ কুমার চক্রবর্তী অসুস্থতা সত্ত্বেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে তাঁকে সংস্থার পক্ষ থেকে বিশেষভাবে সংবর্ধনা জানানো হয়।
আয়োজকদের মতে, রজতজয়ন্তীর এই বিশেষ স্মরণিকা শুধু অতীতের সাফল্যের দলিল নয়, ভবিষ্যতের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেরও একটি মূল্যবান ঐতিহাসিক নথি। উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে খোঁজ খেলাধুলার প্রসারের পাশাপাশি রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচি, দরিদ্র মানুষের সহায়তা, দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণ এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। রজতজয়ন্তীর এই আয়োজন সেই দীর্ঘ সামাজিক অভিযাত্রারই এক গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



