মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৩১ জুলাই : পাথারকান্দি শহরে আক্রমণাত্মক কুকুরের তাণ্ডবে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনে শহরের বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পাথারকান্দি হাসপাতাল সূত্রেও কুকুরের কামড়ে একাধিক ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের ব্যস্ত বাজার, প্রধান সড়ক ও জনবহুল এলাকায় ঘুরে বেড়ানো কয়েকটি কুকুর হঠাৎ পথচারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। কোনও ধরনের উসকানি ছাড়াই তারা মানুষকে ধাওয়া করে কামড়ে দিচ্ছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ, দোকানদার, রিকশাচালক, মোটরসাইকেল আরোহী, শিক্ষার্থী ও অফিসগামী কর্মচারী। অনেকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
পাথারকান্দি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কুকুরের কামড়ে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি জলাতঙ্ক প্রতিরোধে অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর কয়েকজনকে পর্যবেক্ষণেও রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, কুকুরের কামড়কে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসা ও টিকা না নিলে জলাতঙ্কের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ঘটনার পর শহরজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকরা সন্তানদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আতঙ্কের কারণে বাজারে ক্রেতার সংখ্যাও কমতে শুরু করেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে কুকুরের সংখ্যা বাড়লেও কার্যকর কোনো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নিয়মিত নজরদারি, নির্বীজন, টিকাদান ও ভবঘুরে কুকুর নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
এদিকে, সামাজিক সংগঠন, ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে আক্রমণাত্মক কুকুরগুলোকে শনাক্ত করে নিরাপদে আটক ও প্রয়োজনীয় আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি এখন শুধু জনস্বাস্থ্যের নয়, জননিরাপত্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তাই আরও বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রশাসন, পুর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জোরালো হয়েছে।



