বরাক তরঙ্গ, ২৯ জুলাই : অসমের শতাব্দীপ্রাচীন বৈষ্ণব সত্রগুলির সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যেই অসম ভূমি ও রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ আনা হয়েছে বলে বুধবার বিধানসভায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বিলটি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সত্র সংলগ্ন এলাকায় ভূমির মালিকানা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে সুরক্ষা দেওয়াই সরকারের উদ্দেশ্য।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বরপেটা সত্র, মাজুলি ও বটদ্রবা-সহ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলিকে ঘিরে পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি সুরক্ষিত অঞ্চল (বাফার জোন) গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে শুধুমাত্র স্থানীয় বাসিন্দারাই জমি কিনতে পারবেন।
তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ফলে বহু ঐতিহ্যবাহী এলাকার চরিত্র বদলে গেছে। তাই অসমের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় আইনি সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বরপেটা সত্রের উদাহরণ টেনে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে যদি এমন আইন কার্যকর হতো, তাহলে সত্রের আশপাশের জমির বড় অংশ সংরক্ষণ করা সম্ভব হতো। তাঁর দাবি, সময়ের সঙ্গে বরপেটা সত্রের পাঁচ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে একাধিক মসজিদ গড়ে উঠেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
তবে এই আইন কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আনা হচ্ছে না বলেও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমাদের কারও বিরুদ্ধে কোনও নেতিবাচক মনোভাব নেই। আমরা শুধু চাই, অসমের অবশিষ্ট ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকে থাকুক।”
বিরোধী দলগুলির প্রতিও বিলটির প্রতি সর্বসম্মত সমর্থন জানানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই আইন পাস হওয়া উচিত অসমের সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায় বিধানসভার সম্মিলিত অঙ্গীকার হিসেবে, শুধুমাত্র শাসক জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নয়।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই বিধিনিষেধ গোটা রাজ্যে নয়, বরং বরপেটা সত্র, বটদ্রবা ও মাজুলির মতো নির্বাচিত কয়েকটি ২৫০ বছরেরও বেশি প্রাচীন ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, ঘোষিত পাঁচ কিলোমিটার সুরক্ষিত অঞ্চলের মধ্যে জমি কেনাবেচা শুধুমাত্র স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি বেআইনি দখলদারি উচ্ছেদের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। জমি ক্রয় করতে হলে আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে তাঁর পরিবার অন্তত তিন প্রজন্ম ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছে।



