২৯ জুলাই : ঝাড়খণ্ডে গ্রেপ্তার মাওবাদীদের প্রবীণ নেতা মিসির বেসরা। পুলিশ জানিয়েছে, ধানবাদ জেলার বারওয়াড্ডা থানা এলাকার মানিয়াডিহি থেকে মঙ্গলবার মিসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও দুই মাওবাদী নেতাকে।
মিসিরের আদি বাড়ি ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার হারলাডিহিতে। ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, মাওবাদীদের সংগঠনের শীর্ষস্তরের নেতা ও তাদের পলিটব্যুরোর শেষ জীবিত সদস্য মিসির। পলিটব্যুরোর অন্য সদস্যরা হয় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন, নয়ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন। ৬৬ বছর বয়সি ওই নেতার মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। সংগঠনের তাত্ত্বিক নেতা ও অপারেশনাল কম্যান্ডার ছিলেন তিনি। সংগঠনের নেতা ও কর্মীদের কাছে তিনি ভাস্কর ও সাগর নামেও পরিচিত।
ধানবাদ পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে. প্রায় দু’ দশক ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিয়ে মিসির পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। ২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ড থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে বিহার পুলিশের হেফাজত থেকে মিসির পালিয়ে গিয়েছিলেন। ওই বছর তাঁকে বিহারের লখিসরাই জেলার আদালতে পুরোনো একটি মামলায় হাজির করানোর জন্য পুলিশ নিয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ে মাওবাদীরা আদালত চত্বরে মিসির বেসরাকে ছাড়াতে আচমকা হামলা চালায়। তাতেই পালিয়ে যান মিসির।
ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, মিসির বেসরা কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে পারশনাথ পাহাড়ে তলার জঙ্গলে লুকিয়ে রয়েছেন বলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ খবর পাওয়া যায়। সিআরপিএফ, গিরিডি ও ধানবাদ পুলিশ একসঙ্গে তল্লাশি শুরু করে। ধানবাদ-গিরিডির সীমানায় টুন্ডি-মান্ডিয়ার জঙ্গল থেকে পালাতে গিয়ে রাত ৯টা নাগাদ ধরা পড়েন মিসির ও তাঁর দুই সঙ্গী।



