বাবাকে নিয়ে বিধানসভায় আমিনুর রশিদ চৌধুরী

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ জুলাই :
অসম বিধানসভার চলতি অধিবেশনে মঙ্গলবার এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন উপস্থিত বিধায়ক ও রাজনৈতিক মহল। দক্ষিণ করিমগঞ্জের নবনির্বাচিত বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী প্রথমবার তাঁর বাবা, রাজ্যের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং চারবারের কংগ্রেস বিধায়ক আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন। বাবা-ছেলের এই ঐতিহাসিক উপস্থিতি রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, পারিবারিক মূল্যবোধ ও জনসেবার আদর্শের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, “আজকের দিনটি আমার কাছে শুধু বিধানসভার আরেকটি দিন নয়, এটি আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয়, গর্বের এবং স্বপ্নপূরণের দিন। আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ও শ্রদ্ধেয় বাবাকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবার বিধানসভায় প্রবেশ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। এই মুহূর্ত সারাজীবন হৃদয়ে অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকবে।”

তিনি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করার শক্তি ও প্রজ্ঞা কামনা করেন।

অন্যদিকে আবেগাপ্লুত হয়ে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুবার বিধানসভায় প্রবেশ করেছি। কিন্তু আজ নিজের সন্তানকে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে পাশে নিয়ে একই বিধানসভায় প্রবেশ করার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। একজন বাবা হিসেবে এর চেয়ে বড় গর্ব আর হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “আজ মনে হচ্ছে, জনসেবার আদর্শ, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, সততা ও ন্যায়ের যে শিক্ষা সারা জীবন ধারণ করেছি, তা সঠিক উত্তরাধিকারীর হাতেই পৌঁছেছে। আমি সবসময় চেয়েছি আমার সন্তান ক্ষমতার রাজনীতি নয়, মানুষের সেবার রাজনীতি করুক।”

বিধানসভায় উপস্থিত হয়ে আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরীর সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বর্তমান বিধায়করা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, বিধানসভার অতীত স্মৃতি এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন। অনেকেই তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে জনসেবার আদর্শ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সততার উত্তরাধিকার বহনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বাবা-ছেলের এই স্মরণীয় মুহূর্ত দক্ষিণ করিমগঞ্জের পাশাপাশি সমগ্র অসমের রাজনৈতিক অঙ্গনেও দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *