বরাক তরঙ্গ, ২৮ জুলাই : আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিলচর পুর নিগমের নির্বাচন করাতে রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিল গৌহাটি হাইকোর্ট। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত বোর্ড বিনে চলা পুরনিগমের (প্রাক্তন পুরসভা) নির্বাচন করাতে হাইকোর্টে আবেদন করেছিল প্রগতিশীল নাগরিক মঞ্চ, শিলচর। এই আবেদনের শুনানি গ্রহণ করে গত ২২ জুলাই হাইকোর্ট নির্বাচন করানোর নির্দেশ জারি করে, এক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ২ মাসের মধ্যে তা সেরে নিতে বলেছে। সেই হিসেবে ২২ জুলাই নির্দেশ জারির দিন থেকে ধরে নির্বাচন করানোর ২ মাসের সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর।
সোমবার শিলচরে প্রগতিশীল নাগরিক মঞ্চের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে হাইকোর্টের নির্দেশের কথা জানিয়ে আশা ব্যক্ত করা হয়েছে, এবার নিশ্চয়ই বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন করাবে সরকার।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মঞ্চের সভাপতি আইনজীবী ধ্রুব কুমার সাহা বলেন, ২২ জুলাই শুনানির নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট এই নির্দেশ জারি করেছে। তিনি বলেন, এর আগে গত মে মাসে হাইকোর্ট এক অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে একইভাবে দুই মাসের মধ্যে নির্বাচন করাতে বলেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সরকার সেই সময়সীমা অর্থাৎ ২২ জুলাই এর মধ্যে নির্বাচন করায়নি। তখন হলফনামা দিয়ে আদালতের কাছে আরও দুই-তিন মাস সময় চাওয়া হয়েছিল। তবে এবার আদালত শুনানী প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে নির্দেশ জারি করেছে, তাই আশা করা যায় এবার তা অবশ্যই কার্যকর করা হবে। ধ্রুববাবু আরও বলেন, আগে আদালত কোনও বিষয়ে টিপ্পনি কাটলেও সরকার সেক্ষেত্রে খুবই গুরুত্ব দিত। কিন্তু বর্তমানে এসব আর বজায় থাকছে না। ধ্রুববাবুর বক্তব্যের সূত্র ধরে মঞ্চের অন্য কর্মকর্তা মহীতোষ পাল (আশু) বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিচার বিভাগের স্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো বর্তমানে সরকারের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশও পাশ কাটিয়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে এক অশনি সংকেত। তিনি আরও বলেন, সরকার নির্দেশ পাশ কাটিয়ে গেলে আদালতের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা নথিভুক্ত করাটাই কাম্য। কিন্তু বর্তমানে এমন ক্ষেত্রে আবেদনকারী ব্যক্তিকেই ফের আদালত অবমাননার মামলা করতে হয়।
বাসুদেব শর্মা বলেন, শিলচরে পুর পরিষেবা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি আবার কারোও মতামত না নিয়েই পুরকর বৃদ্ধি করা হয়েছে কয়েকগুণ। এ নিয়েও তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর আশা, নির্বাচন নিয়ে যেভাবে আদালতের রায় তাঁদের পক্ষে এসেছে একইভাবে করবৃদ্ধি সংক্রান্ত আবেদনের রায়ও তাঁদেরই পক্ষে আসবে। এতে জনগণ করের বোঝা থেকে রক্ষা পাবেন। সঞ্জীব রায় বলেন, পুরনিগমে নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় একনায়কতন্ত্র চলছে। এর উপরি সরকার নির্বাচন করানো নিয়ে আদালতের নির্দেশকেও বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে। এসব কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
কিশোর ভট্টাচার্য বলেন, ২০২০ সাল থেকে শিলচরে নির্বাচিত পুরো বোর্ড নেই। এবার আদালত এ নিয়ে ইতিবাচক নির্দেশ দিয়েছে। তিনিও আশা ব্যক্ত করেন একইভাবে করের বোঝা লাঘব নিয়ে আদালতের রায়ও তাদের পক্ষেই আসবে। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সীমান্ত ভট্টাচার্য, নন্দদুলাল সাহা ও প্রণব দত্ত (মলয়) প্রমুখ।



