বরাক তরঙ্গ, ২৬ জুলাই : সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠন এআইইউটিইউসি (AIUTUC)-এর কাছাড় জেলা কমিটির উদ্যোগে রবিবার শিলচরের পেনসনার্স ভবনে এক শ্রমিক অভিবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের জেলা সভাপতি সুব্রত চন্দ্র নাথের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা, শ্রম আইন, ন্যূনতম মজুরি এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে একাধিক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
অভিবর্তনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অরুণাংশু ভট্টাচার্য। মূল প্রস্তাব উপস্থাপন করেন রামকুমার বাগতি। প্রস্তাবের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন রাজ্য কমিটির সহ-সভাপতি ভবতোষ চক্রবর্তী, অল আসাম ইলেকট্রিসিটি এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের প্রতিনিধি নরুল হোসেন তালুকদার এবং কাঠমিস্ত্রিদের প্রতিনিধি রতন বর্মন।
প্রধান বক্তা অরুণাংশু ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্বজুড়ে এবং ভারতবর্ষে পুঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শোষণের বিরুদ্ধে শ্রমিক আন্দোলন ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের নয়ডা ও হরিয়ানার গুড়গাঁওয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে পুঁজিপতিদের সুবিধার্থে শ্রম আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি সঠিক আদর্শের ভিত্তিতে বৃহত্তর সংগ্রামের আহ্বান জানান তিনি। সভায় কাঠমিস্ত্রিদের লাইসেন্স প্রদানের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।

অভিবর্তনে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলির মধ্যে ছিল শ্রমিক-বিরোধী শ্রম কোড বাতিল, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৬ হাজার টাকা নির্ধারণ, স্কিম ওয়ার্কারদের সরকারি স্বীকৃতি প্রদান, পুরনো পেনশন ব্যবস্থা পুনর্বহাল, চা-শ্রমিকদের ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৬৬০ টাকা নির্ধারণ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের বেসরকারিকরণ বন্ধ করা।
এছাড়া উধারবন্দের পানগ্রামের একটি কারখানায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, দোষীদের কঠোর শাস্তি এবং দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।



