বরাক তরঙ্গ, ২৬ জুলাই : কাছাড় জেলার উধারবন্দ পানগ্রামে কেডি গ্লোবাল ইনফ্রাস্টকাচারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে তিন শ্রমিক ও এক লরি চালকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর কারখানার ম্যানেজারসহ চার কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের পাশাপাশি গুয়াহাটি থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এ দিকে, মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল (CM Relief Fund) থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে জানান,, “আমি বিধায়ক শ্রী রাজদীপ গোয়ালাকে নির্দেশ দিয়েছি, তিনি যেন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই কঠিন সময়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করেন।” শিল্প প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এ ঘটনায় যেকোনো ধরনের অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ কারখানার ভেতরে হঠাৎ প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পানগ্রাম দ্বিতীয় খণ্ডের কিরণ মুণ্ডা, পানগ্রাম প্রথম খণ্ডের আপ্পু বড়াইক এবং ডুমুরঘাটের সায়ামল গৌড়ের। গুরুতর আহত হন বিনোদ বর্মন নামে আরও এক শ্রমিক।
নিহতদের মধ্যে ধর্মনগরের বাসিন্দা সাগর নাথ কারখানায় স্ক্র্যাপ বহনকারী একটি লরির চালক ছিলেন। বিস্ফোরণের সময় তিনি লরির ভেতরে বসে ছিলেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় উড়ে আসা ধাতব টুকরো তাঁর শরীরে বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। অপর তিন শ্রমিকের দেহ বিস্ফোরণের অভিঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাজ্যের মন্ত্রী কৌশিক রায়। তিনি উদ্ধারকাজ ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গুয়াহাটি থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল এসে বিস্ফোরণের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখবে। এছাড়া সহকারী শ্রম কমিশনারের দপ্তরও কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছিল কি না, তা তদন্ত করবে।
মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে কথা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহত চারজনের পরিবারের প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, ঘটনার পর কারখানার ম্যানেজার আমির চান্দ জাহাঙ্গির, নিরাপত্তারক্ষীসহ মোট চার কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।



