বরাক তরঙ্গ, ২৬ জুলাই : ভাগাবাজার-ইসলামাবাদ এলাকার পরিচিত মুখ, বিশিষ্ট তরুণ উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী খোরশেদ আলম মজুমদার (আলম) আর নেই। রবিবার ভোর প্রায় ৩টায় গুয়াহাটির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৩৮ বছর। তাঁর অকালপ্রয়াণে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং সমগ্র এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খোরশেদ আলম মজুমদার ছিলেন ভাগাবাজার-ইসলামাবাদ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইসমাইল আলি মজুমদারের একমাত্র পুত্র। অল্প বয়সেই তিনি নিজের মেধা, পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে ব্যবসায়িক জগতে সাফল্য অর্জন করেন। মেহের এন্টারপ্রাইজ, আবরার স্টিল এবং স্পারকল প্লাস পানীয়জল কোম্পানিসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে সুপরিচিত হয়ে ওঠেন।
কয়েকদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে শিলচরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ২৩ জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য গুয়াহাটির একটি বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয়নি। ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক গুণাবলীর জন্যও তিনি এলাকায় বিশেষভাবে সমাদৃত ছিলেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা এবং সকলের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তিনি সর্বমহলে শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসী একজন সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তার পাশাপাশি সমাজসেবায় নিবেদিত এক মানবিক ব্যক্তিত্বকে হারাল।
রবিবার সকাল ১০টায় গুয়াহাটি থেকে সড়কপথে তাঁর মরদেহ নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন পরিবারের লোকরা। সোমবার দুপুর ১-৩০ মিনিটে ইসলামাবাদ জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি বাবা-মা, স্ত্রী, সাত বছর বয়সী এক পুত্র, চার বছর বয়সী এক কন্যা, এক বছর বয়সী আরেক পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর অকালপ্রয়াণে বিভিন্ন সামাজিক, ব্যবসায়িক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সকলের কাছে তাঁর হাস্যোজ্জ্বল মুখ, অমায়িক ব্যবহার এবং মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার স্মৃতি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।



