২৫ জুলাই : ‘মিত্রো’ থেকে ‘ফ্রেন্ডস’। রাত ৮টার টেলিভিশন ভাষণ থেকে মধ্যরাতের সেলফি-লাইভ। রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিধানে কি নতুন প্যারাডাইম শিফটের ইঙ্গিত মিলছে? নাকি জ়েনজ়ি-র ডিজিটাল দুনিয়ায় ‘তাঁদেরই একজন’ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী? বোঝাতে চাইছেন, ‘আমি তোমাদেরই লোক।’ পরপর দু’দিন (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) তাঁর লাইভ বার্তা ঘিরে চলছে সেই জল্পনাই।
২০১৬-র নোটবন্দির ঘোষণা হোক কিংবা কোভিড-১৯ অতিমারির সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ — সবটাই ছিল স্টুডিওর নিখুঁত আলোয় সাজানো। গম্ভীর আবহ, সংযত কন্ঠে। কোটি কোটি ভারতীয় টেলিভিশনের সামনে স্তব্ধ হয়ে তাঁর ভাষণ শুনেছেন। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। বদলে গিয়েছে অভ্যাস, এমনকী সংবাদ পরিবেশনের কৌশলও।
যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনের মতো জ়েনজ়ি বিক্ষোভে ছোট ভিডিও বা রিলস, ট্রেন্ডিং অডিও, ভাইরাল মিম এবং দ্রুত আপডেটই মূল হাতিয়ার।
ব্যক্তিগত সংযোগের অনুভূতি: মোবাইলের ভিডিয়ো অনেকটা ব্যক্তিগত ভিডিও কলের মতো। দর্শকের কাছে অনেক বেশি স্বাভাবিক। অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য।
সময়: ভিডিয়ো পোস্ট করলেন মাঝরাতে। কারণ, তরুণদের বড় অংশ ওই সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘অ্যাকটিভ’ থাকে। সকালে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের আগেই ওই ভিডিও বিপুল দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়।
অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের মতে, এটি নিছক পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নয়; বরং সরকারি যোগাযোগের ধরনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। মন্ত্রিসভার বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদেরও ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিয়েছেন মোদী। পরামর্শ দিয়েছেন রিলস বানানোর। বুঝিয়ে দিয়েছেন, তরুণদের ভাষায় তরুণদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তবু প্রশ্ন থেকেই যায়। একটি সেলফি ভিডিয়ো কি সংসদের দীর্ঘ বিতর্কের বিকল্প হতে পারে? সরকারি মঞ্চে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কি কয়েক মিনিটের রিলসের গুরুত্ব বহন করে? হয়তো এই প্রশ্নের উত্তর লিখবে আগামী দিনের গণতন্ত্র।



