ইয়ামালের আলিঙ্গনে সম্মান পেলেন মেসি, ফুটবলে প্রজন্ম বদলের প্রতীকী দৃশ্য

Spread the news

২২ জুলাই : মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে গোটা স্টেডিয়াম। তবে সেই উৎসবের মাঝেও সবার নজর কেড়ে নেয় এক আবেগঘন দৃশ্য। সতীর্থদের বিজয় উদযাপন উপেক্ষা করে ১৯ বছরের স্প্যানিশ তরুণ লামিনে ইয়ামাল ধীর পায়ে এগিয়ে যান মাঠের অপর প্রান্তে, যেখানে রানার্স-আপের পদক গলায় নিয়ে নিজের দেশের সমর্থকদের সামনে আবেগে ভেঙে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি।

ইয়ামালকে এগিয়ে আসতে দেখে চোখের জল মুছে দাঁড়িয়ে পড়েন মেসি। এরপর দীর্ঘক্ষণ একে অপরকে আলিঙ্গন করেন দুই প্রজন্মের এই দুই তারকা। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে মুহূর্তটি যেন বিশ্ব ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে নেতৃত্বের প্রতীকী হস্তান্তরের ছবি হয়ে ধরা দেয়।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত ইয়ামাল বলেন, “মেসিই আমার আদর্শ। আমি শুধু ওঁর কাছে গিয়ে বলেছিলাম, ‘আই অ্যাম সরি।’ উনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘তুমি এর চেয়েও অনেক বেশি কিছুর যোগ্য।’ আমি শুধু তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। সেই মুহূর্তে আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছিল।”

ইয়ামাল আরও বলেন, “ফাইনালের পর আমি কোনও প্রতিপক্ষকে দেখিনি। আমি এমন একজন মানুষকে দেখছিলাম, যাঁর খেলা দেখে আমার মতো লাখো শিশু ফুটবলের প্রেমে পড়েছে। তাঁর ভিডিও দেখেই আমি বড় হয়েছি, তাঁকে অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি। ট্রফি ও রেকর্ড ভাঙা সম্ভব, কিন্তু একটি পুরো প্রজন্মকে ফুটবলের প্রেমে পড়তে শেখানো খুব কম মানুষের পক্ষেই সম্ভব।”

উল্লেখ্য, ফাইনালের কয়েক দিন আগেই নিউ ইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে ইয়ামাল সম্পর্কে প্রশংসা করেছিলেন মেসি। ২০০৭ সালে ইউনিসেফের একটি আলোচিত ফটোশুটে শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে স্নান করানোর স্মৃতি উল্লেখ করে মেসি বলেছিলেন, “ছবিটা অবিশ্বাস্য। তখন আমি একটি শিশুকে স্নান করাচ্ছিলাম, আর আজ সেই ছেলেই আমার বিপক্ষে ফাইনাল খেলছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। বার্সেলোনার প্রতি আমার ভালোবাসার কারণেই আমি ওর অগ্রগতি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করি।”

মেসিকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইয়ামাল আরও বলেন, “আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে হয়তো আমারও উত্তরসূরি আসবে, কিন্তু দ্বিতীয় কোনও লিওনেল মেসি আর জন্মাবে না। তাঁর সঙ্গে একই মাঠে খেলতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব।”

ফাইনালের পরাজয় মেসির ক্যারিয়ারে নিঃসন্দেহে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। তবে প্রতিপক্ষ দলের এক তরুণ ফুটবলারের কাছ থেকে পাওয়া অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আবারও প্রমাণ করল, ট্রফির সংখ্যার বাইরেও লিওনেল মেসির সবচেয়ে বড় অর্জন কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে তাঁর অমলিন স্থান। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই আবেগঘন মুহূর্ত তাই শুধু একটি ফাইনালের স্মৃতি নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলে এক প্রজন্মের বিদায় এবং নতুন প্রজন্মের উত্থানের প্রতীক হিসেবেই ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *