শ্রীভূমি জেলায় আরবিএসকে-র উদ্যোগে শিশু ফিরে পেল হাসি, ঠোঁটের জন্মগত ত্রুটির সফল চিকিৎসা

Spread the news

জনসংযোগ, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৫ সেপ্টেম্বর : শ্রীভূমি জেলার নিলামবাজার ব্লকের শিশু অনিশা জান্নাত-এর জীবনে নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রমের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি। স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় অনিশার ঠোঁটের জন্মগত ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সফল চিকিৎসার পর তার মুখে ফিরে এসেছে স্বাভাবিক হাসি ও আত্মবিশ্বাস।

রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রমের আওতায় বিদ্যালয় ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এই স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় স্বাস্থ্যকর্মীরা অনিশার ঠোঁটের জন্মগত ত্রুটি শনাক্ত করেন। এরপর তাকে আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য শ্রীভূমিতে আর্লি ইন্টারভেনশন সেন্টার বা জেলা প্রারম্ভিক হস্তক্ষেপ কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে নির্ধারিত চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে অনিশাকে “মিশন স্মাইল”-এ পাঠানো হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার ঠোঁটের জন্মগত ত্রুটির সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসার পর শিশুটির চেহারায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে এবং তার হাসি ও আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে।

এই ঘটনা শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্তকরণ, দ্রুত চিকিৎসার জন্য পাঠানো এবং যথাযথ বিশেষায়িত চিকিৎসা নিশ্চিত করার গুরুত্বকে আরও একবার তুলে ধরেছে। রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রমের স্বাস্থ্যকর্মী, জেলা প্রারম্ভিক হস্তক্ষেপ কেন্দ্র এবং মিশন স্মাইলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অনিশা সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

অনিশার পরিবারের কাছেও এই চিকিৎসা নিয়ে এসেছে স্বস্তি, আনন্দ ও নতুন আশার বার্তা। একটি সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকেই শুরু হয়েছিল তার চিকিৎসার পথচলা, যা শেষ পর্যন্ত তার জীবনে এনে দিয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

স্বাস্থ্য দফতরের কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের সাফল্যের ঘটনা প্রমাণ করে যে শিশুদের স্বাস্থ্য সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে তাদের সুস্থতা, আত্মবিশ্বাস ও জীবনযাত্রার মানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা সম্ভব।

অনিশার চিকিৎসা তাই শুধু একটি সফল চিকিৎসার কাহিনি নয়; এটি আশা, আত্মবিশ্বাস এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের উদাহরণ।

এই উদ্যোগের প্রতি জনগণকে আরও সচেতন হতে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। যাতে একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সময়মতো উদ্যোগ একটি শিশুর মুখে ফিরিয়ে দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *