ভারতমালা প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের দুই বছর পরও মেলেনি ক্ষতিপূরণ, সংকটে হাতিখিরা চা বাগান

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২০ জুলাই :
কেন্দ্রীয় সরকারের ভারতমালা প্রকল্পের আওতায় বদরপুর–চুরাইবাড়ি চার লেন জাতীয় সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রায় দুই বছর পরও ক্ষতিপূরণের অর্থ না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে শ্রীভূমি জেলার পাথারকান্দি এলাকার ঐতিহ্যবাহী হাতিখিরা চা বাগান। এর জেরে বাগানের উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং শতাধিক শ্রমিকের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করির হস্তক্ষেপ চেয়ে শ্রীভূমির জেলা শাসকের মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি পাঠিয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। হাতিখিরা চা বাগানের সিইও আর. পি. সিং স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপির অনুলিপি রাজ্যের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল, এনএইচআইডিসিএল-এর জেনারেল ম্যানেজার এবং পাথারকান্দির সার্কেল অফিসারের কাছেও পাঠানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে, ভারতমালা প্রকল্পের জন্য প্রায় ১০ হেক্টর চা বাগানের জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর সঙ্গে শ্রমিক কোয়ার্টার, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, বিভিন্ন অবকাঠামো এবং মূল্যবান সম্পত্তিও প্রকল্পের আওতায় চলে যায়। এতে প্রায় দেড় লক্ষ চা গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বছরে ১৫ থেকে ২০ হাজার কেজি চা উৎপাদনের সক্ষমতা হারিয়েছে বাগান।

বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি সালিশি আদালতে গড়ালে আদালত প্রায় ৫৪ হাজার চা গাছের ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয়। প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন ও ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ সম্পন্ন হলেও এনএইচআইডিসিএল এখনও পর্যন্ত অর্থ ছাড় করেনি বলে অভিযোগ।
সংবাদ সম্মেলনে আর. পি. সিং বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প অবশ্যই প্রয়োজন, তবে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য প্রাপ্য দীর্ঘদিন আটকে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে বকেয়া ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান।

বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি, দ্রুত ক্ষতিপূরণের অর্থ মিললে আর্থিক সংকট কাটিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শত শত চা শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জীবিকাও সুরক্ষিত হবে। বর্তমানে শ্রমিকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও কেন্দ্রীয় সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *