২০ জুলাই : বিশ্বকাপের ফাইনালে এমন একপেশে আধিপত্যের ম্যাচ খুব কমই দেখা গেছে। ২০১৮ সালের ফাইনালে ফ্রান্স ৪-২ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারালেও লুকা মদ্রিচদের দল লড়াই করেছিল শেষ পর্যন্ত। কিন্তু এবার স্পেনের বিপক্ষে যেন নিজেদেরই ছায়া হয়ে ছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। পাসিং, বল দখল, আক্রমণ, শট—প্রতিটি বিভাগেই লা রোজাদের ছিল নিরঙ্কুশ আধিপত্য। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য ড্র ধরে রাখতে পারলেও অতিরিক্ত সময়ে আর স্পেনকে আটকাতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ফেররান তোরেস নিকো উইলিয়ামসের নিখুঁত পাস থেকে দুর্দান্ত ভলিতে জয়সূচক গোল করেন। সেই একমাত্র গোলেই ১০ জনের আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে চ্যাম্পিয়ন হলো লা রোজারা।
টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় স্পেন। চতুর্থ মিনিটেই লামিন ইয়ামালের শট অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ফিরতি বল থেকেও স্পেন বিপজ্জনক আক্রমণ গড়লেও কোনোভাবে বিপদ সামাল দেয় আর্জেন্টিনার রক্ষণ।
১৭ মিনিটে লিওনেল মেসিকে ফাউল করে ফ্রি-কিক উপহার দেন আলেক্স বায়েনা। রদ্রিগো ডি পলের নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে নিকো গনসালেস সুযোগ পেলেও বল নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন। এরপর কার্যত পুরো ম্যাচই ছিল স্পেনের দখলে।

প্রথমার্ধে মিকেল ওইয়ারসাবালের জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মার্টিনেজ। দ্বিতীয়ার্ধেও ইয়ামাল, দানি ওলমো, ফেররান তোরেসদের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ করে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তিনি। তার অসাধারণ গোলকিপিং না থাকলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। ৯৩ মিনিটে স্পেনের ডিফেন্ডার পাও কুবার্সির ওপর কঠিন ট্যাকল করায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর স্পেনের চাপ আরও বেড়ে যায়।
৯৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামস বল জালে পাঠালেও মিকেল মেরিনোর ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে ১০৬ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। ডান দিক থেকে নিকো উইলিয়ামসের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাম পায়ের দুর্দান্ত ভলিতে জাল কাঁপান ফেররান তোরেস। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল তার ২৫তম গোল এবং সেটিই হয়ে ওঠে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী মুহূর্ত।
১১৩ মিনিটে তোরেস আরও একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। শেষ দিকে মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু হুলিয়ানো সিমিওনের হেড বারের অনেক ওপর দিয়ে চলে গেলে শেষ আশাটুকুও নিভে যায়। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের ট্রফি নিজেদের করে নেয় স্পেন। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে হতাশায় মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনাকে।



