১৭ জুলাই : ইরানে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে হামলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো, রেলস্টেশনসহ একাধিক বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত বা সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।
এদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলার জবাবে বাহরাইনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় তারা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা সতর্কতাও বাড়ানো হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। তার এই মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে ওমান উপসাগরে একটি জাহাজে অভিযান চালিয়ে সেখানে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সর্বশেষ এই ঘটনাপ্রবাহে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।



