মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১০ জুলাই : অসম সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘জল জীবন মিশন’-এর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি (পিএইচই) বিভাগের উদ্যোগে ডিব্রুগড় সার্কেলের এক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভাগীয় মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চলমান পানীয় জল প্রকল্পগুলির অগ্রগতি, অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করা, পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
হাইব্রিড পদ্ধতিতে আয়োজিত বৈঠকে ডিব্রুগড়ে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেন উচ্চ অসম জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (স্যানিটেশন) তথা চিফ ইঞ্জিনিয়ার ভাস্কর জ্যোতি শর্মা। ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল ডিব্রুগড় সার্কেলের বিভিন্ন জেলার প্রকল্পের অগ্রগতি পৃথকভাবে পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।
বৈঠকে ডিব্রুগড়, তিনসুকিয়া, শিবসাগর ও চরাইদেও জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী, সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার, সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা সমন্বয়কারী এবং ব্লক রিসোর্স কো-অর্ডিনেটররা অংশ নেন। আলোচনায় ‘হর ঘর জল’ গ্রাম সার্টিফিকেশন, IMIS পোর্টালে তথ্য হালনাগাদ, বাল্ক ফ্লো মিটারের রিডিং, ডিফেক্ট লাইয়াবিলিটি পিরিয়ড, অকার্যকর ও অসমাপ্ত প্রকল্প, টাইড ফান্ডের আওতায় রক্ষণাবেক্ষণ এবং ২০২৬ সালের সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বিধিমালার বাস্তবায়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।
মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল স্পষ্টভাবে জানান, সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রকল্প সম্পন্ন করা নয়, প্রতিটি পরিবারের কাছে নিরাপদ, বিশুদ্ধ ও নিরবচ্ছিন্ন পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব অসমাপ্ত প্রকল্প শেষ করতে হবে এবং কোনোভাবেই কাজের গুণমানের সঙ্গে আপস করা যাবে না। মাঠপর্যায়ে প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ, সময়মতো তথ্য আপলোড এবং বিল নিষ্পত্তির ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, জল জীবন মিশন মানুষের স্বাস্থ্য, জীবনমান ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিরাপদ পানীয় জলের পাশাপাশি উন্নত স্যানিটেশন এবং বৈজ্ঞানিক কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেই একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
বৈঠকে বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীরা নিজ নিজ এলাকার প্রকল্পের অগ্রগতি ও সমস্যা তুলে ধরেন। যেখানে কাজের গতি সন্তোষজনক নয়, সেখানে দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। বৈঠকের শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও নিবিড় তদারকির মাধ্যমে ডিব্রুগড় সার্কেলের সব প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং হাজার হাজার পরিবার নিরাপদ পানীয় জল, উন্নত স্যানিটেশন ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা পাবে।



