লখিমপুরে অবৈধ স্ক্র্যাপিং গুদামে পরিবহণ দপ্তরের অভিযান, উদ্ধার শতাধিক গাড়ির ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৯ জুলাই : লখিমপুরে একটি অবৈধ যানবাহন স্ক্র্যাপিং গুদামে অভিযান চালিয়েছে জেলা পরিবহণ দপ্তর। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে শত শত যানবাহন কেটে স্ক্র্যাপ করা হচ্ছিল এবং সেখান থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিক্রি করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার লখিমপুর শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের টাউন বানতৌ এলাকায় ১৫ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত ঋষিকেশ ট্রেডার্স-এ এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি গাড়ির ইঞ্জিন এবং হাজার হাজার যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার হয়।

জেলা পরিবহণ আধিকারিক গৌতম কুমার দাস জানান, ঋষিকেশ ট্রেডার্সে অবৈধভাবে যানবাহন স্ক্র্যাপ করার অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, “অভিযানে আমরা দেখতে পাই যে এখানে অবৈধভাবে বিভিন্ন গাড়ি স্ক্র্যাপ করা হয়েছে। কমপক্ষে ৩০০-৪০০টি গাড়ির ইঞ্জিন অবৈধভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যে কেউ ইচ্ছামতো যানবাহন স্ক্র্যাপ করতে পারেন না। ২০২২ সালে সরকার যানবাহন স্ক্র্যাপিং সংক্রান্ত আইন চালু করেছে। সেই আইন অনুযায়ী ১৫ বছরের বেশি পুরনো বা দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানবাহন শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত স্ক্র্যাপিং কেন্দ্রে জমা দিতে হবে। সেখান থেকে প্রাপ্ত শংসাপত্র জেলা পরিবহণ দপ্তরে জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধন বাতিল করা হয়।”

স্ক্র্যাপিংয়ের নিয়ম সম্পর্কে তিনি জানান, এম-পরিবহণ (M Parivahan) অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করলে সরকার অনুমোদিত কেন্দ্র বাড়ি থেকে গাড়ি সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার সুবিধাও রয়েছে। কিন্তু ঋষিকেশ ট্রেডার্স কোনও সরকারি নিয়ম বা আইন মানেনি। সরকারি আইনকে উপেক্ষা করে তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে শত শত যানবাহন স্ক্র্যাপ করে আসছিল।

তদন্ত শেষ হলে এই গুদাম থেকে চুরি হওয়া গাড়িরও সন্ধান মিলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন জেলা পরিবহণ আধিকারিক। পাশাপাশি, ঋষিকেশ ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্ক্র্যাপিং গুদামটি সিল করে দেওয়ারও ইঙ্গিত দেন তিনি।
উল্লেখ্য, অভিযানের সময় ঋষিকেশ ট্রেডার্সের মালিক উপস্থিত ছিলেন না। ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *