এক্সপ্রেসওয়েতে স্বামীকে বাঁচাতে প্রাণভিক্ষা স্ত্রীর! সোনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতেও থামল না যুবকেরা

Spread the news

৯ জুলাই : বেঙ্গালুরু-মাইসুরু এক্সপ্রেসওয়েতে এক পরিবারের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা প্রকাশ্যে এল। মাণ্ড্য জেলার মাদুরের কাছে নিজের স্ত্রী ও ১০ মাসের সন্তানকে নিয়ে গাড়ি করে যাওয়ার সময় একদল যুবক সাগর কুমার নামে এক ব্যক্তির উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। আক্রান্তের আর্তনাদ ও স্ত্রীর অনুনয়-বিনয় সত্ত্বেও দুষ্কৃতীরা তাঁদের ওপর অমানবিক অত্যাচার চালায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি) হওয়ার পর তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।স্থানীয় খবর

পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে। ট্র্যাফিক জ্যামের মধ্যে সাগর কুমারের গাড়ির সঙ্গে অন্য একটি গাড়ির ধাক্কা লাগে। এরপরই শুরু হয় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, যা মুহূর্তের মধ্যে চরম হিংসাত্মক রূপ নেয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একদল যুবক সাগরের গাড়ি ঘিরে ফেলে, তাঁকে টেনে হিঁচড়ে বের করে রাস্তায় ফেলে মারধর করতে থাকে। স্ত্রীকে গাড়ি থেকে নেমে স্বামীকে আড়াল করার চেষ্টা করতে দেখা গেলেও দুষ্কৃতীরা থামেনি।

আক্রান্ত সাগর কুমার সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, “আমার স্ত্রী হাতজোড় করে অনুরোধ করেছিল, আমাদের সোনাদানা যা আছে নিয়ে নাও, কিন্তু বাচ্চাটা আছে, আমাদের ছেড়ে দাও। কিন্তু তারা কোনো কথাই শোনেনি।” সাগরের দাবি, তাঁর স্ত্রী ও শিশু সন্তানকেও ছাড়েনি ওই যুবকেরা। আক্রান্ত সাগর বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আরও জানান, পুরো ঘটনাটি রেকর্ড হওয়ায় তাঁরা প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন এবং দোষীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

সাগর কুমার এই ঘটনার পর মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “হাইওয়েতে সিসিটিভি ক্যামেরা বা নজরদারি পর্যাপ্ত নয়, যার ফলে দুষ্কৃতীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। সিস্টেমের পরিবর্তন না হলে এমন ঘটনার বিচার পাওয়া অসম্ভব।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অপরাধের প্রমাণ না থাকলে অধিকাংশ ভুক্তভোগীই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জনমানসে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সাগর কুমার জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পরই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে। তবে, এক্সপ্রেসওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে এমন নৃশংসতা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিয়ে বড়সড়ো প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *