এস পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ৭ জুলাই : এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ছয় নম্বর জাতীয় সড়কের কাছাড় জেলার কাটিগড়ার চৌরঙ্গী বাজারে সড়কের মাঝখানে নালার মতো গভীর খাদ তৈরি হয়ে রয়েছে। অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা NHIDCL-এর যেন কোনও তাড়াহুড়োই নেই। প্রতিদিন এই ভাঙা অংশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট, ধীরগতির যান চলাচল এবং প্রায় নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর মেরামতের উদ্যোগ আজও অধরাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয় সড়কের এই অংশটি এখন কার্যত ‘দুর্ঘটনার ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। মাত্র দু’দিন আগেই এক শিশু ওই স্থানের জন্য দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। তবুও যেন টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন হাজার হাজার মানুষ।
গত ২৯ জুন NHIDCL-এর পক্ষ থেকে জেসিবি মেশিন এনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিষ্কার করা হয়েছিল। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, এবার হয়তো দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু হবে। কিন্তু বাস্তবে সেটিই ছিল শেষ দৃশ্য। আজ ৮ দিন পেরিয়ে গেলেও আর কোনো কাজ চোখে পড়েনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধুই লোকদেখানো উদ্যোগ ছিল?
এদিকে, গুমড়া সেতু বিকল থাকায় গুয়াহাটি থেকে কাটিগড়া অভিমুখী বা এদিক থেকে গুয়াহাটি অভিমুখী ভারী যানবাহনের চলাচলও বর্তমানে বন্ধ। অর্থাৎ ছয় নম্বর জাতীয় সড়কে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম। গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টিও নেই। কাজের জন্য এমন অনুকূল সময় থাকা সত্ত্বেও কেন জাতীয় সড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি মেরামত করা হচ্ছে না – তার সদুত্তর মিলছে না।
একই চিত্র কালাইন এলাকাতেও। কয়েকদিন কাজের নামে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করার পর বর্তমানে সেখানে কার্যত সব কাজ বন্ধ। উড়ন্ত ধুলোয় অতিষ্ঠ পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষোভ বাড়ছে প্রতিদিন।
বর্ষা পুরোপুরি শুরু হলে পরিস্থিতি যে আরও ভয়াবহ হবে, সে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, এখনই দ্রুত সংস্কার না হলে চৌরঙ্গী বাজার, কালাইন সহ কাটিগড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় জাতীয় সড়ক আবারও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়বে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, মানুষের জীবন ও দুর্ভোগের চেয়ে কি দাপ্তরিক উদাসীনতাই বড়? আর কত দুর্ঘটনা ঘটলে নড়েচড়ে বসবে NHIDCL? অবিলম্বে সড়ক মেরামতের কাজ শুরু করে জনদুর্ভোগ দূর করতে NHIDCL, সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।



