৭ জুলাই : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইন্দোনেশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক নতুন গতির সঞ্চার হতে চলেছে। ভারতের রাষ্ট্রদূত সন্দীপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞ মহলের নজর এখন ভারতের সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মোস’-এর দিকে। রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরেই এই বিষয়ে কোনও ইতিবাচক ঘোষণা বা ‘ভালো খবর’ পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। কৌশলগত দিক থেকে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ভারতের এই প্রতিরক্ষা চুক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রতিরক্ষার পাশাপাশি এবারের সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে খনিজ সম্পদের ক্ষেত্র। ইন্দোনেশিয়ার খনিজ বাজারে চিনের প্রভাব থাকলেও, জাকার্তা যে ভারতের মতো অন্যান্য দেশের সঙ্গেও অংশীদারিত্ব বাড়াতে আগ্রহী, তা রাষ্ট্রদূতের কথায় স্পষ্ট। এই সফরে খনিজ সম্পদ সংক্রান্ত একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো।
উল্লেখ্য, এটি প্রধানমন্ত্রীর চতুর্থ ইন্দোনেশিয়া সফর। দুই দিনের এই ব্যস্ত সূচিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়েও একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মোদির এই সফর ভারত-ইন্দোনেশিয়ার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক উচ্চতর স্তরে নিয়ে যাবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রদূত সন্দীপ চক্রবর্তী।
আজ, ৭ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা (স্থানীয় সময়) নাগাদ ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসরত ভারতীয় প্রবাসীদের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রায় ৪ হাজার প্রবাসী ভারতীয়র এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই সফর ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই প্রভাবশালী দেশটির মধ্যে কৌশলগত মৈত্রীকে আরও মজবুত করবে বলেই কূটনৈতিক মহলের ধারণা।



