৭ জুলাই : ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী, বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ যান, হেলিকপ্টার এবং পানি নিক্ষেপকারী বিমান মোতায়েন করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
ফরাসি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের পিরেনিজ-ওরিয়ঁতাল অঞ্চলে শুরু হওয়া দাবানল অল্প সময়ের মধ্যেই বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ গ্রাস করেছে। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় দমকল বাহিনীর জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেক পরিবারকে স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দিন-রাত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আকাশপথে পানি ছিটিয়ে আগুনের বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। অভিযানের সময় কয়েকজন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়।
ফ্রান্সের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী খরা ও কম আর্দ্রতার কারণে বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অতীতের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
চরম গরমে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছেন পর্যটক, কৃষক এবং খোলা জায়গায় কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বয়স্ক, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান, দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান না করা এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



