৭ জুলাই : বিশ্বজুড়ে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে ৫৯টি দেশ থেকে এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইন্টারপোলের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন গ্লোবাল চেইন’-এ একই সঙ্গে উদ্ধার ও শনাক্ত করা হয়েছে দুই হাজারেরও বেশি মানবপাচারের শিকার বা সম্ভাব্য ভুক্তভোগী।
ইন্টারপোল জানিয়েছে, গত ৮ থেকে ১২ জুন পরিচালিত এ অভিযানে মোট ২ হাজার ৭০ জন ভুক্তভোগী বা সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই নারী। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৩৪ জনের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে, আর ৬৯০ জনকে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযানে যৌন নির্যাতন, জোরপূর্বক শ্রম, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং ভিক্ষাবৃত্তিতে মানুষকে বাধ্য করার সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, ইউরোপে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করতে লাতিন আমেরিকার নাগরিকদের পাচারের প্রবণতা বাড়ছে। শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীদের প্রায় ১০ শতাংশই যৌন নির্যাতনের শিকার অপ্রাপ্তবয়স্ক।
কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণা চক্রে কাজ করাতে মানুষ পাচারকারী একটি আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের যৌনকর্মে বাধ্য করা একটি চক্রের বিরুদ্ধেও সফল অভিযান চালানো হয়েছে।
ব্রাজিলে ৪০৬ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, তাদের অনেককে কম্বোডিয়ায় নিয়ে গিয়ে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হয়েছিল। অন্যদিকে আর্জেন্টিনায় বলিভিয়ার দুই শিশুকে জোরপূর্বক শ্রম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বেলজিয়ামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ফাঁদে ফেলে যৌনকর্মে বাধ্য করার অভিযোগে একটি চক্র ভেঙে ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে কর্তৃপক্ষ।
আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এ অভিযানে অংশ নেন। অভিযানের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে ৪৬৫টি নতুন তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আরও ২০১ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
ইন্টারপোলের মহাসচিব ভালদেসি উরকিজা বলেন, মানবপাচার এখনো বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক সংগঠিত অপরাধগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব—সাম্প্রতিক এই অভিযান তারই প্রমাণ।
তথ্যসূত্র : বিবিসি, খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



