মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৬ জুলাই : শ্রীভূমি জেলার পাথারকান্দি বিধানসভা এলাকার অসম-মিজোরাম-ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে গভীর রাতে বহিরাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক শূকর মিজোরামে পাচারের অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশেষ করে লোয়াইরপোয়া-কানমুন আন্তঃরাজ্য সড়ক ব্যবহার করে নিয়মিত এই কারবার চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও অভিযোগের সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও মেলেনি, তবুও বিষয়টি নিয়ে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা, খামারি ও সচেতন মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বহিরাজ্য থেকে বড় লরিতে করে শূকর প্রথমে পাথারকান্দির হাতিখিরা বা রাঙামাটি এলাকায় আনা হয়। পরে সেখানে গাড়ি বদলে ছোট বা মিনি লরিতে করে সেগুলি মিজোরামের উদ্দেশে পাঠানো হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে পশুস্বাস্থ্য নিয়ে। স্থানীয় শূকর চাষিদের আশঙ্কা, বহিরাজ্য থেকে আনা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা প্রয়োজনীয় পশুচিকিৎসা সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে মানা না হলে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে ক্ষুদ্র খামারিদের পাশাপাশি গোটা এলাকার পশুপালন শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি সমস্ত পশু বৈধ নথিপত্র, স্বাস্থ্য সনদ ও সরকারি অনুমতি নিয়েই পরিবহণ করা হয়ে থাকে, তবে দিনের পরিবর্তে গভীর রাতে পরিবহণ করা হচ্ছে কেন? এই প্রশ্ন থেকেই সাধারণ মানুষের মনে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকার একাংশের অভিযোগ, জেলার একাধিক থানা এলাকা অতিক্রম করে শুকরবোঝাই লরি কীভাবে নির্বিঘ্নে বাজারিছড়া হয়ে রাঙামাটিতে পৌঁছে গাড়ি বদল করে মিজোরামের পথে রওনা হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনো সরকারি প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকলে একই কায়দায় রাতের পর রাত এভাবে গাড়ি চলাচল সম্ভব হতো না। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ প্রসঙ্গে পাথারকান্দি সমজেলা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) অনির্বাণ শর্মা অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, অবৈধ বাণিজ্য ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের চলমান অভিযানের মধ্যেই এই অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, যদি কোনও অবৈধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
পাশাপাশি পাথারকান্দি সমজেলা পুলিশ, বাজারিছড়া থানা, জেলা পশুপালন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের যৌথ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের আহ্বান, বহিরাজ্য থেকে পশু পরিবহণে স্বাস্থ্যবিধি, বৈধ নথিপত্র ও সরকারি নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা দ্রুত খতিয়ে দেখা হোক।



