বরাক তরঙ্গ, ২ জুলাই : ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের অন্যতম বীর সেনানি শহিদ অসিতরঞ্জন ভট্টাচার্যের আত্মবলিদান দিবস বৃহস্পতিবার শিলচরের গান্ধী শান্তি প্রতিষ্ঠানে শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়। ১৯৩৪ সালের ২ জুলাই মাত্র ১৯ বছর বয়সে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির মঞ্চে আত্মবলিদান দেন এই তরুণ বিপ্লবী। প্রতি বছরের মতো এ বছরও তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে গান্ধীবাগে অবস্থিত শহিদ অসিতরঞ্জন ভট্টাচার্যের প্রতিমূর্তিতে মাল্যদান ও পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন গান্ধী শান্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যকরী সভাপতি আইনজীবী শেখর পাল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার দেব, হরিদাস দত্ত, সীমান্ত ভট্টাচার্য, বাপী রায়, সত্যজিৎ গুপ্তসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। পরে উপস্থিত বক্তারা শহিদের জীবন, আদর্শ ও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ১৯৩৩ সালের ১৩ মার্চ সুরমা মেলের সরকারি ডাক লুঠ অভিযানে ছয় সদস্যের একটি বিপ্লবী দলের নেতৃত্ব দেন তরুণ অসিত রঞ্জন ভট্টাচার্য। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। ‘ইটখোলা ডাকলুঠ’ নামে পরিচিত ওই ঘটনায় সমগ্র সিলেটে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টে স্থানান্তরিত করা হয়। কলকাতা হাইকোর্টে বিচার শেষে অসিতরঞ্জন ভট্টাচার্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিরাজ মোহন দেব, বিদ্যাধর সাহা ও গৌরাঙ্গ লাল দাসকে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরের সাজা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁদের আন্দামানের সেলুলার জেলে পাঠানো হয়। অসিত রঞ্জনের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল এবং তাঁর মায়ের প্রাণভিক্ষার আবেদনও শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে যায়। অবশেষে ১৯৩৪ সালের ২ জুলাই ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে সিলেট কারাগারে ফাঁসির মঞ্চে অবিচল সাহসিকতার সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেন মাত্র ১৯ বছরের এই তরুণ বিপ্লবী। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শহিদ অসিতরঞ্জন ভট্টাচার্যের আত্মত্যাগ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করবে।



